কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী রহিম খানের নির্বাচনী প্রচারণা না করায় গোপগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনকে জোর করে তুলে নিয়ে ঘরে আটকিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাবেক চেয়ারম্যানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সিসি ফুটেজ ফেসবুকে প্রচার হওয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
নির্যাতনের শিকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, দুপুরে খোকসা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী রহিম খানের ছেলে রবিন খান ও তার সহযোগী সৈকতসহ ১০/১২ জন কয়েকটি মোটরসাইকেল যোগে এসে তাকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
রবিনের চাচা কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খানের বাড়িতে। সেখানে ঘরে আটকিয়ে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে ভাতিজা রবিনসহ কয়েকজন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাকে কোরআন হাতে দিয়ে শপথ করানো হয় রহিম খানের নির্বাচন করার জন্য।
আলমগীর হোসেন আরও বলেন খোকসা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বাবুল আক্তারের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহন করবেন তিনি। এটা জানার পরই সদরউদ্দিন খানের লোকজন তার সাথে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি অসুস্থ হয়ে গেলে সদরউদ্দিন খানের লোকজন তাকে ছেড়ে দেয়৷ বর্তমানে তিনি খোকসা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সদরউদ্দিন খান মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এসব নাটক করছেন তারা। সামনে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাবুল আখতার এবং তার ভাই রহিম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মানুষের কাছে অসহায়ত্ব তুলে ভোট পাবার জন্য এসব করছে। সিসি টিভি ফুটেজে আলমগীরকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বলেন তার ভাতিজা রবিনের সাথে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কারণে এটা হতে পারে। কিছু দিন আগে আলমগীরের ছেলের গাঁজা বিক্রির ভিডিও ভাইরাল হয়েছিলো। এলাকার ছেলেদের নষ্ট করছে সেই কারণেও হতে পারে।
খোকসা থানার ওসি আন-নূর যায়েদকে ফোন দিলে তিনি ছুটিতে আছেন এ বিষয়ে কিছুই জানেননা বলে জানান।