• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
বিএটিবির দাম কমানোর প্রস্তাবে রাজি হলে সিগারেটে রাজস্ব কমবে ২২০০ কোটি টাকা হেঁটে যাই বিদ্যালয়, দেহ-মন সুস্থ রয় শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীতে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল উদ্ধার গাংনীতে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ের নিচে ব্যাগ দেখে বোমা আতঙ্ক: ব্যাগে মিলল গমের ময়দা গাংনীতে সার বহনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে চালকের জরিমানা মুজিবনগরে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট শামীম গ্রেফতার নড়াইলে ৯ কার্যদিবসে ৫ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ঘাতকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকান্ডে সন্তানসহ কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দম্পতি নিহত মেহেরপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জেলা পরিষদের বৃত্তি প্রদান গাংনীতে ৪ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক: জেল-জরিমানা

বাল্য বিয়ের আয়োজনে হাজির ইউএনও

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫
বাল্য বিয়ের আয়োজনে হাজির ইউএনও
বাল্য বিয়ের আয়োজনে হাজির ইউএনও

সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে মানবিকে জিপিএ-৫ পায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার এক ছাত্রী। তাকেই জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পরিবার। খবর পেয়ে সেই বিয়ে ঠেকিয়ে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হোসনে আরা।

পরিবারের দাবি, পড়াশোনা চালানোর মতো আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় তারা মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিলেন। ওই স্কুলছাত্রী ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে বড়। বাকি দুই ভাইও পড়াশোনা করছে। মা গৃহিণী।

ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি। কাজ হলে দিনে ৫০০ টাকার মতো আয় হয়। আর কাজ না থাকলে আর কোনো আয়ের উৎস নেই। মাসে গড় ৯-১০ হাজার টাকা আয় হয়। চার শতাংশ জমির ওপর দুই কক্ষের টিনের একটি ঘরে সবাই মিলে বসবাস করেন। মাঠে কোনো চাষযোগ্য জমি নেই, তার আয়েই পাঁচজনের সংসার চলে। প্রায়ই তাকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। এ কারণে মেয়ের বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।

তবে আপাতত বিয়ে নয়, ওই কিশোরী স্বপ্ন দেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। সে জানায়, সেখানে পড়াশোনা শেষ করে একটি সরকারি চাকরি করবে। এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা চেয়েছে স্কুল ছাত্রী।

ওই স্কুলছাত্রী ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী জানিয়ে তার বাবা বলেন, আর্থিক কারণে তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু মেয়ে সেখান থেকে স্কুলে চলে আসে। সে এবার একটি বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেছে। এই সময়ে মেয়ের পড়ালেখার খরচ তেমনভাবে দিতে পারেননি তিনি। পরীক্ষার আগের সময়ে অংক ও ইংরেজি বিষয়ে প্রাইভেট পড়লেও খুব কষ্ট করে এই টাকা দিয়েছেন। এখন বাকি পড়ালেখা চালানোর মতো সামর্থ্য তার নেই।

ওই কিশোরীর মা বলেন, বাকি দিনে মেয়েকে কীভাবে পড়াশোনা করাবেন তা ভেবে পাচ্ছিলেন না। এমন সময় একটি ছেলের সন্ধান দেন স্থানীয় ঘটক। এ কারণে তারা বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন।

ওই স্কুল ছাত্রীর বিয়ের বয়স হয়নি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হোসনে আরা বলেন, মেয়েটি মেধাবী এবং বয়সও কম। এই অবস্থায় তার বিয়ের চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে সেটি বন্ধের ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি খোঁজখবর রাখছেন যেন তাকে গোপনে বিয়ে না দেওয়া হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category