পর পুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে অস্বীকৃতি জানানোতে স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে লোহার শাবল দিয়ে পিটিয়ে ঘুমন্ত স্বামী রবিউলকে হত্যা করে স্ত্রী রিনি খাতুন। ২৬ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারের পর পিবিআই কুষ্টিয়ার কাছে এমনি অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। একই সময়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার শাবল উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই কুষ্টিয়ার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ১৯ জুন রাতে খুন হয় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নওদা খাদিমপুর গ্রামের রবিউল। এ ঘটনায় রবিউলের ভাই ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মিরপুর থানায় একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলঅটি পিবিআই কুষ্টিয়াকে তদন্তভার দেওয়া হয়। পিবিআই কুষ্টিয়া গভীর তদন্ত শেষে রবিউলের স্ত্রী রিনিকে কুষ্টিয়া সদর থানাধীন কুমারগাড়া এলাকা হতে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে রিনি খাতুন জানায় যে, তার স্বামী রবিউল স্থানীয় একাধিক এনজিও হতে ৫লক্ষ টাকা ঋণ নেয়। কিন্তু নিয়মিত কিস্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে রবিউল টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তার স্ত্রী রিনি খাতুনকে প্রতিবেশী শিপনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে। দীর্ঘ ২০ বছর এভাবে চলার পর তিন বছর পূর্বে রিনি খাতুনের একটি জটিল অপারেশন হয়। এর পর হতে রিনি খাতুন শিপনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে অস্বীকার করে। কিন্তু রবিউল তার স্ত্রীর আপত্তি মানতে নারাজ।
এতে করে স্বামী রবিউলের উপর রিনির রাগ ও ক্ষোভ বাড়তে থাকে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ঘটনার রাতে রিনি ঘুমন্ত স্বামী রবিউলকে শাবল দিয়ে মাথায় পরপর চারটি আঘাত করে জখম করে। আহত রবিউলকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। রিনি এই বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।