শিক্ষা শব্দটার সাথে প্রথমেই উচ্চারিত হয় শিক্ষক। মানসম্মত শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেন শিক্ষক। “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড” শব্দ বা বাক্যটা আমাদের সবারই জানা। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাটা আদৌ কি জাতির মেরুদন্ড তৈরি করছে? নাকি শিক্ষা ক্ষেত্রটাকেই ব্যবসায় রুপান্তর করছি সেটা কি আমরা একবারও ভাবছি? যদি না ভেবে থাকি তাহলে ভাবতে হবে শিক্ষায় যেনো জাতি মেরুদন্ড সোজা করে দাড়াতে পারে।
শিক্ষার প্রথম ধাপ প্রাথমিক শিক্ষা। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণই তাদের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছেন। একটা সময় ছিলো নিজেদের প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষদের সন্তানরা লেখা পড়া করতো। বর্তমানে শিক্ষকরা নিজেদের সন্তানকে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দিচ্ছেন ভালো লেখা পড়া করানোর জন্য। তাহলে কি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারছেন না নিজেদের প্রতিষ্ঠানে?।
মাধ্যমিকস্তরেও একই অবস্থা বিরাজ করছে সারাদেশই। বর্তমান সরকার নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করে দিচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিগত জ্ঞানার্জনের জন্য স্থাপন করা হচ্ছে ডিজিটাল ল্যাব। তাহলে কেনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে নিজেদের সন্তান দিতে আগ্রহী শিক্ষকগণ। অথচ সেই সন্তানকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য লাখ টাকা খরচ করছেন কোচিং করানোর জন্য। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে রাষ্ট্রের সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে সেই অর্থ ব্যায় করা হচ্ছে নিজেদের সন্তানকে শিক্ষিত করতে। এখনই সময় শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার।
শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে প্রতিটি স্তরের দিকেই নজর দিতে হবে। আমরা কেবল সরকারিকরণ এবং বেতনভাতাদি ও অবকাঠামো নির্মাণকেই শিক্ষার উন্নয়ন হিসেবে ভাবছি।
তবে মানের দিক থেকে কেবল এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে তা বলা যাবে না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সরকারি, এমপিওভুক্ত ও প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা একই সিলেবাসে পাঠদান করেন।
বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হচ্ছে। যার ফলে শিক্ষাব্যবস্থায় মেধাবীদের আগমন ঘটছে। এখনই সময় শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়নে কঠোর নজরদারী ও ভিন্ন ভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করার।