‘শিশুর শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করি, শিশুশ্রম বন্ধ করি’ এই শ্লোগানে পালিত হয়ে গেলো বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। প্রতিরোধ ও সচেতনতা সৃষ্টি সেই সাথে শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হচ্ছে না। শিশুশ্রম বন্ধে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে থাকতে হবে সতর্ক। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। সবারই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কথা থাকলেও সারা দেশেই কথাটি বেমানান। তবে কোন দিবস পালন করেই শিশুশ্রম বন্ধ হবে না, বৃদ্ধি করতে হবে সামাজিক সচেতনতা।
২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০১৮ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। সে অনুযায়ী কেউ যদি শিশুশ্রমিক নিয়োগ করে, তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হবে। আইন অনুযায়ী ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত কিশোরেরা হালকা কাজ করতে পারবে। আগে ১২ বছরের শিশুদের এমন হালকা কাজের সুযোগ ছিল। নিকট অতীতে এই আইনের কোনো প্রয়োগ দেখা যায়নি।
বিভিন্ন হাট বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, হোটেল রেস্তোরায় ও মিনি কারখানায় শিশু শ্রমিক ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যাপক হারে। এছাড়াও হরেক রকম ফেরি করে ঘুরে বেড়াচ্ছে অসংখ্যক শিশু। শিশু শ্রম আইনের কোন প্রয়োগ না থাকায় দিন দিন বেড়েই চলছে এর সংখ্যা। কিছু সংখ্যক সুবিধাভোগী মহাজন, দোকান ও কারখানা মালিক কম পারিশ্রমিকে শিশু শ্রমিক নিয়োগ করে তাদের দিয়ে বিভিন্ন কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র পরিবারের বেশির ভাগ শিশু এসব কর্মকা-ে নিয়োজিত। যে বয়সে স্কুলে পড়াশুনা নিয়ে এদের ব্যস্ত থাকার কথা সে বয়সে তারা দু’মুঠো ভাতের আশায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে । ঝুঁকিপুর্ণ কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় মৃত্যু বা পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে অনেকেরই।
বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় সারা পৃথিবীতেই পরিবর্তন হচ্ছে প্রতিনিয়ত কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র অনেকটা ব্যাতিক্রম। শিশুশ্রম আইন আছে নেই প্রয়োগ তাই প্রয়োজন সমাজিক সচেতনতা।