টানা তিন দিন ধরে মেহেরপুর জেলায় শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। ভোর থেকে ঘন কুয়াশা, কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, কৃষিশ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
সকাল থেকে সূর্যের দেখা মিললেও ঠান্ডার তীব্রতা কমেনি। ঘন কুয়াশার কারণে জেলার বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল ছিল ধীরগতির। বিশেষ করে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক সড়কে সকাল পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যান চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে কর্মজীবী মানুষ ও দিনমুরেরা ভোগান্তি বেড়েছে।
শীতের কারণে কাজের সন্ধানে বের হতে পারছেন না অনেক দিনমজুর। সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের দিনমজুর আবদুল মালেক বলেন, ‘ভোরে কাজে বের হই। কিন্তু এত ঠান্ডা যে শরীর কাঁপতে থাকে। ঠিকমতো কাজ করা যায় না। কাজ না করলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।’
গাংনী উপজেলার ভ্যানচালক মকবুল হোসেন বলেন, সকালে যাত্রীই পাওয়া যায় না। ঠান্ডার জন্য মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে কম। আয় অনেক কমে গেছে।
শীতের প্রভাব পড়েছে কৃষিখাতেও। সকালে কুয়াশার কারণে মাঠে কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। কয়েকজন কৃষক জানান, শীত বেশি হলে শীতকালীন সবজির কিছু ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এখনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
জেলার গ্রামাঞ্চলে শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডাজনিত অসুস্থতা বাড়ছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন। অনেক পরিবার পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে বা আগুন জ্বালীয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চল থেকে আসা শীতল বাতাসের কারণে জেলার ওপর দিয়ে শীতের এই প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা কম থাকার পাশাপাশি ভোরে কুয়াশা থাকতে পারে।
এদিকে শীতার্ত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণ করা গেলে সাধারণ মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।
জেলা সিভিল সার্জন এ কে এম আবু সাঈদ বলেন, শীতে বয়স্ক ও শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে হাসপাতাগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন। জেনারেল হাসপাতাল ও গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন।