নিত্য প্রয়োজনীয় দ্যব্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে ক্রেতা-ভোক্তাদের যখন নাভিস্বাস ওষ্ঠাগত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তখনও বিভিন্ন অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আসায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে চলেছে। এক্ষেত্রে মানুষের দুর্ভোগ কমানোর দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের তৎপরতা অদৃশ্য। লক্ষ করলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলে তখনই স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়ে। কিন্তু কোনো পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমলেও স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়ে অনেক পরে। ব্যবসায়ীরা অজুহাত দেখান বেশি দামে ডলার কিনে পণ্য আমদানি করা এবং দেশে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দামসহ বিভিন্ন সেবার মূল্য বাড়ানোতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এসব কারণে পণ্যের দাম কমানো যাচ্ছে না।
লক্ষ করা গেছে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের হাটবাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রায় সব ধরনের পণ্য বিক্রি হয় বেশি দামে। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বিগত কয়েক মাস ধরে মসলাসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বাজারে যে ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বাজার তদারকি সংস্থার অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের আঁতাতের বিষয়টি বহুল আলোচিত। কাজেই সরষের ভেতরের ভূত তাড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। পণ্য ও সেবার দাম যাতে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে, সেজন্য সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।