• বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন

প্রতারক সাঈদের ফাঁদে নিঃস্ব গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও সাবেক ক্রিকেটার জুয়েল

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
প্রতারক সাঈদের ফাঁদে নিঃস্ব গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও সাবেক ক্রিকেটার জুয়েল
প্রতারক সাঈদের ফাঁদে নিঃস্ব গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও সাবেক ক্রিকেটার জুয়েল

গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও মেহেরপুর জেলা ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার জুয়েল হোসেন। তিনি মেহেরপুর শহরের দক্ষিণ ফৌজদারী পাড়ার আব্দুল মান্নানের ছেলে। একই এলাকার সৌদী প্রবাসী আবু সাঈদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন। আবু সাঈদ একই এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। শুধু প্রতারনায় নয় জুয়েলের বিরুদ্ধে সাঈদ তার বৌ-শাশুড়ির মাধ্যমে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জুয়েল হোসেন।

বুধবার (৪ মার্চ) সকালে শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দাম্মাম আল খুবার তুকবা ৩০ নং জুমা মার্কেট আবু সাঈদ থাকে। সে সৌদী আরবের দাম্মামে ব্যবসা করে। আমি নারায়নগঞ্জে গার্মেন্টস আইটেমের ব্যবসা করি। তখন আমার নারায়নগঞ্জে জে এন্ড এস ফ্যাশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। সাঈদ যখন জানতে পারে আমি গার্মেন্টস আইটেমের ব্যবসা করি তখন সে গার্মেন্টস আইটেম কিভাবে সৌদী আরবে নেওয়া যায়, কিভাবে ব্যবসা করা যায় সেটা জানতে চাই। সেটা জানার পরে সে আমার কাছে থেকে মালামাল নিতে আগ্রহী হয় এবং একপর্যায়ে তার সাথে আমার ব্যবসা শুরু হয়।

সৌদীতে প্রথম ব্যবসা চালু হয় ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত। সে সময় সাঈদের ভুলে অনুমানিক ১৭ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়। সাঈদ আমাকে দিয়ে নারায়ণগঞ্জে একটি ফ্যাক্টরীও দেওয়ায়। ৬-৭ মাস কোন কাজ না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিতে হয়। তারপর ২০২১ সালে সাঈদ আমাকে পুনরায় ফোন দেয় এবং সে সময় বলে পিছনের কথা ভুলে গিয়ে নারায়ণগঞ্জে আবার ব্যবসা শুরু করেন। তার কথামত পুনরায় নারায়নগঞ্জে গিয়ে সারা ফ্যাশন নামে ব্যবসা শুরু করি। কিছুদিন না যেতেই সাঈদ টাকার প্রয়োজন দেখায় এবং সে ব্যাংক লোনের জন্য আমাকে অনুরোধ করে।

তার কথামত তার ছেলের নামে মোহাম্মদ গার্মেন্টস নামে মেহেরপুরে একটি ট্রেড লাইসেন্স করে ২০২১ সালে অক্টোবরে আমার নামীয় জমি মর্টগেজ রেখে রূপালী ব্যাংক, মেহেরপুর শাখা থেকে একটি ২০ লক্ষ টাকার সিসি লোন করি। লোন করতে মেহেরপুর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান দিপু, রূপালী ব্যাংকের ম্যানেজার কাজল, শাহী, সাউদীয়া টাওয়ারের মালিক তুহিন ব্যাংক স্ট্রেটম্যান্টের জন্য টাকা দিয়ে সাহায্য করে লোন পেতে। কিছুদিন পর আমি জানতে পারি ওই লোনের টাকায় সাঈদ সৌদীতে একটি দোকান ক্রয় করে।

সাঈদের কথামতো আমি ২০২৩ সালে ফেব্রুয়ারি মাসের ২৭ তারিখে প্রথম সৌদি আরবে যায়। সৌদি আরবে গিয়ে দেখি সাঈদ একটি দোকানে চাকুরীরত আছে। তার কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। বিষয়গুলো জানার পর তখন সাঈদকে আমার ব্যবসার টাকা ফেরৎ দেওয়ার জন্য বলি। সাঈদ তখন আমার কপিলকে দিয়ে সে একটি সুপারশপ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। সে বলে এই দোকান হলে আমাদের সৌদি থাকা সহজ হবে। তখন নতুন করে ব্যবসার জন্য সে মেহেরপুরে ওয়াহেদ নামের একজনের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা নেয় এবং আমি ১৫ লক্ষ টাকা দিই আর সাঈদ ১৫ লক্ষ টাকা দিতে চাইলেও একটি টাকাও ইনভেস্ট করেনি। আমরা বাধ্য হয়ে সৌদি আরবে থাকা টাঙ্গাইলের লুৎফর নামের একজন কে পার্টনার হিসেবে নিই এবং দোকান চালু করি। দোকান পরিচালনার জন্য আমার ভাতিজা ও ভাগিনাকে সৌদীতে নেওয়া হয়।

সাঈদ কোন টাকা না দিলেও শুধু কপিল নিয়ন্ত্রণের জন্য তাকে ব্যবসায়ী পার্টনার হিসেবে থাকে। কিছুদিন পর সাঈদের একটি কাপড়ের দোকান আছে বলে আমাকে জানায় এবং সেখানে কিছু টাকা ইনভেস্ট করলে ব্যবসায় আরও লাভ হবে এবং দোকানটি আমাদের হয়ে যাবে। সে মোতাবেক আমি তাকে আবারও ১০ লক্ষ টাকা দিই। সে দোকানটি আমি চালাতাম। কিন্তু দোকানের হিসাব, ব্যাংক কার্ড থাকতো সাঈদের কাছে। বাংলাদেশ থেকে যে সমস্ত মালমাল যেত সেগুলো সবই সাঈদ নিয়ন্ত্রণ করতো এবং তার মোবাইল নাম্বার দিয়ে সিএনএফ’র মাধ্যমে যেত। কখনো কখনো আমার কফিল ফয়সাল, সাঈদের বন্ধু বশিরের মোবাইল নাম্বার দিয়েও মালামাল নিত।

২০২৩ সালে ডিসেম্বর মাসে আমার মেঝো ভাই মারা গেলে। আমি ছুটিতে বাংলাদেশে আসি। কিছুদিন পর জানতে পারি সাঈদ আমাদের দোকান বিক্রি করে সমস্ত টাকা নিয়ে নিয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৭৫ হাজার রিয়াল। সেই দোকানটি তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ১ লক্ষ ৫৫ হাজার রিয়াল। পরে তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সে বলে আপনি আসলে সব ঠিক করে নেব।
পরে আমি সৌদীতে ফিরে গেলে সে আমাকে কাপড়ের দোকানে বসতে বলে এবং নারায়নগঞ্জ থেকে মালামাল নিয়ে ব্যবসা করতে থাকি।

২০২৪ সালে রোজা ও কুরবাণী ঈদের সময় যেসমস্ত মালামাল নিয়েছিলাম সে সমস্ত মালামালের টাকা দিতে সে গড়িমসি শুরু করে। নানা চিন্তায় তখন আমার মিনিস্ট্রোক হয়। সে কারণে আমি ছুটি নিয়ে আবার বাংলাদেশে চলে আসি। এই সুযোগে সে কাপড়ের দোকানটি বিক্রয় করে দেয়। যার মূল্য প্রায় ৬৫ হাজার রিয়াল। এভাবে সে টাকাগুলো নিয়ে নিজ কফিলের নামে নিজে দোকান দিতে থাকে। আমি বুঝতে পেরে প্রতিনিয়ত টাকার দেওয়ার জন্য প্রেসার দিতে থাকি কিন্তু সে কোনভাবে টাকার ব্যবস্থা করে না। এদিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে যে মাল আমি সৌদি আরবে পাঠাই সে সব ব্যবসায়ীরা আমাকে টাকা দেওয়ার জন্য প্রেসার দিতে থাকে। সে সময় আমি তাকে হিসাব দিই তার পরিমাণ ছিল ব্যাংক লোনসহ ১ কোটি ৪ লক্ষ টাকা। আমি তাকে জানালে সে আমাকে বাংলাদেশে এসে তার নিজের নামে জমি এবং পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া জমি বিক্রয় করে টাকা পরিশোধ করবে বলে জানায়। শেষমেশ ২০২৫ সালে ডিসেম্বর এর ১৪

তারিখে বাংলাদেশে আসে এবং আমার টাকা পরিশোধের জন্য স্থানীয় বড় ভাইদের নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বসে সমস্ত ব্যবসায়িক লেনদেন বিষয়ে কথা হয়। সাঈদের ছুটি স্বল্পতার জন্য সে সৌদি আরবে যাওয়ার ছুটিও বাড়ায় এবং আমাকে আশ্বস্থ করে জমি বিক্রয় করে আমার পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেবে। কিন্তু ৩১ ডিসেম্বর তার স্ত্রী, শ্বাশুড়ী, স্ত্রীর বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় গোপনে সৌদি আরবে চলে যায়।

পরে আবারও আমি সৌদিতে গেলে সে সমস্ত ব্যবসা ও ব্যাংকের ২০ লক্ষ টাকা লোন এবং জমি বিক্রি করে আমাকে টাকা দেওয়ার কথা অস্বীকার করে। আমার সাথে এতবড় প্রতারণার পরও উল্টো একটি জমি নিয়ে আমার নামে মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ওই জমি নিয়ে ওয়াহেদের সাথে তার লেনদেন রয়েছে অথচ তার যোগসাজসে তার স্ত্রী আমাকে মামলা দিয়েছে। এই প্রতারকের ফাঁদে পড়ে আজ আমি নিঃস্ব। যার কারণে আমার মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও বিক্রি করতে হচ্ছে। আমি এক সঠিক বিচার চাই।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category