নাশকতা চেষ্টার অভিযোগে মেহেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল ও সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ ৯ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরে বামন্দী এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল।
ডিবি সুত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের বামন্দী ইউনিয়নের অলিনগর নামক স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীরা নাশকতার লক্ষ্যে জড়ো হচ্ছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেহেরপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহসান খানের নির্দেশনায় ওসি ডিবির নেতৃত্বে অভিযান চালায় এসআই আশিকুর রহমান। অভিযানে জেলা বিএনপির দুই নেতাসহ ১০ জনকে আটক করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশের আভিযানিক দল। আটককৃতরদেরকে গাংনী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
আটককৃতরা হচ্ছেন- মেহেরপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তেরাইল গ্রামের করিম মন্ডলের ছেলে জুলফিকার আলী ভুট্টো (৫৬), বামন্দী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও বামন্দী বাজারের আব্দুল বারি বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল আওয়াল (৫৭), তেরাইল গ্রামের আকবর আলীর ছেলে মাহিদুর রহমান (৪৮), রমজান আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫০), তাহাজ উদ্দীনের ছেলে তাহের (৬০), গাংনী মাঠপাড়ার তাহাজ উদ্দীনের ছেলে বশির আহমেদ (৪৫), ভোমরদহ গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে হাবিবুর (৩৩), ওমর আলীর ছেলে শরিফুল (৪৫), রামনগরের ওয়াজেদ আলীর ছেলে নাহারুল (৪১) ও দেবীপুর গ্রামের পালান উদ্দীনের ছেলে আশরাফুল (৪০)।
এদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫-ডি তৎসহ বিষ্ফোরক উপাদানবলী আইনের ৪/৬ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যার নং- ২৯/২৩, তাং- ২৪-১২-২৩ ইং।
মেহেরপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইস অ্যান্ড অপস) আহসান খান জানান, হরতাল-অবরোধের নামে বিএনপি নেতাকর্মীরা নাশকতার অপচেষ্টা করছিল। এসময় কয়েকজনকে আটক করা হলেও পালিয়ে যায় আরও কয়েক জন। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলার আসামি হিসেবে তাদেরকে আদালতে সোদর্প করা হবে। তবে নাশকতার স্থান থেকে পালিয়ে যাওয়া কয়েক জনকে আটকের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। আসামির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও জানান তিনি।