মেহেরপুর সরকারী শিশু পরিবার (বালক) ও মুজিবনগর সরকারী শিশু পরিবার (বালিকা)’র ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের টেণ্ডারে অনিয়ম ও স্বজন প্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেহেরপুর জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কাজী কাদের মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি তার পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে সুপারিশ করেছেন বলে লিখিত অভিযোগ করেছেন ঝিলিক ওয়াশিং সেন্টারের সত্ত্বাধিকারী ঝন্টু শাহ।
বুধবার (২১ জুন) দুপরে অভিযোগ পত্রটি মেহেরপুর জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করেছেন তিনি। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন—তিনি সরকারি শিশু পরিবার (বালক), মেহেরপুর মুজিবনগর কমপ্লের সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) মুজিবনগর, মেহেরপুর এর ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের টেণ্ডারে অংশ গ্রহণ করে দরপত্র সমূহ দাখিল করেন। তিনি একজন এতিমখানার প্রাক্তন নিবাসী হিসেবে দীর্ঘ ১০/১২ বছর ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি শিশু পরিবারে মালামাল সরবরাহ করে আসছেন।
২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে খালেদ মজিবুলের নামে দুই শিশু পরিবারের সবগুলো বিভাগে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে গণ্য হওয়ার পর মুল্যায়ন কমিটি তাকে কাজ দেননি। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক কাদের মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি স্যার তার পছন্দনীয় ঠিকাদার মেহেরপুর ট্রেডিং ও তার মামা ফরিদ ট্রেডিং কে গোপনীয় মার্কেটিং বাজার দর আগের রাতে হস্তান্তর পূর্বক বাজার দরের সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ রেখে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তাদের কাজ দেয়ার সুপারিশ করেন।
বর্তমানে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে তার মামা ফরিদ ট্রেডিং কে কাজ দেয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে মার্কেটিং বাজার দর তৈরী করে টেণ্ডারের আগে বাজার দর তাদের হাতে নিয়ে দেয় এবং সে মোতাবেক তারা দরপত্র পূরন করেন। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ভারপ্রাপ্ত স্যার এতিম নিবাসীদের প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে অস্বাভাবিক বেশী দরে টেন্ডার পাশ করানোর জন্য সবসময় সুপারিশ করেন। অতিরিক্ত প্রদেয় দরে দরদাতাকে কার্যাদেশ দিলে সারা বছর নিবাসীদের খাবারের কষ্ট হবে। কারন প্রতিদিন নাস্তাসহ তিন বেলা খাবারের এতিম নিবাসীদের জন্য জনপ্রতি বরাদ্দ একশত টাকা। বিষয়টি বিবেচনা পূর্বক ২০২৩—২০২৪ অর্থ বছরের দরপত্র যাচাই বাছাই পুর্বক কার্যাদেশ প্রদানের জন্য আবেদনে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এব্যাপারে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কাদের মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি তিনি জানান, বাজার দর নিরুপণ করেন কৃষি বিপনন বিভাগ। সেটি সমাজ সেবাও জানেন না। টেণ্ডারের বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন। যাচাই বাছাই নিরপণ কমিটি বিষয়টি দেখবেন এবং ওই কমিটিই কার্যাদেশ দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরো জানান, কোন স্বজন প্রীতি বা অনিয়ম করা হয়নি। তাছাড়া ফরিদ নামে তার কোন মামা নেই।