• শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মেয়াদোত্তীর্ণ দরপত্রে চলছে কাজলা নদীর মাটি বিক্রি মেহেরপুর হাসপাতালে পচা ডিম ও নিম্নমানের খাবার, ধরলেন বিএনপি নেতারা মেহেরপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার মুজিবনগরে ইউপি নির্বাচন ঘিরে বিএনপি’র দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুরুতর আহত-৩ বল খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ হারালো যমজ শিশু চুয়াডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতে ইসলামীর সড়ক খুঁড়ে কাজ বন্ধ, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ মেহেরপুরে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণের দাবীতে মতবিনিময় মহেশপুরে শ্বশুরের কুড়ালের আঘাতে জামাই খুন, ঘাতক শ্বশুর আটক গাংনী কাঁচাবাজার মসজিদের উদ্বোধন

মেয়াদোত্তীর্ণ দরপত্রে চলছে কাজলা নদীর মাটি বিক্রি

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
মেয়াদোত্তীর্ণ দরপত্রে চলছে কাজলা নদীর মাটি বিক্রি
মেয়াদোত্তীর্ণ দরপত্রে চলছে কাজলা নদীর মাটি বিক্রি

মেহেরপুর সদর উপজেলার গহরপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কাজলা নদীর খনন করা মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন করে দরপত্র আহ্বান কিংবা আগের নিলাম নবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত না করেই নদীর পাড়ে স্তূপ করে রাখা মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

মেহেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) সূত্রে জানা গেছে, দরপত্রের মাধ্যমে বলিয়ারপুর গ্ৰামে জিয়াখাল ও গহরপুর গ্ৰামে কাজলা নদীর পুঃনখনন কাজের উত্তোলিত বিক্রির ব্যবস্থা করে।

গত ১৫ জুন মেহেরপুর পানি উন্নয়ন উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শান্ত দত্তের স্বাক্ষরিত পরিপত্রে কাজলা নদীর পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় ১৩ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার থেকে ১৩ দশমিক ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত অংশ থেকে উত্তোলিত মাটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। ‘লট নং-নিলাম-০৬/২০২৫-২৬’-এর আওতায় ৬ হাজার ৭৮৯ দশমিক ৭৫ ঘনমিটার মাটি অপসারণের জন্য সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকায় এস এম ফিরোজুর রহমানকে নির্বাচিত করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট নিলামের মেয়াদ গত ৩০ জুলাই শেষ হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এরপরও মেহেরপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম ফিরোজুর রহমান ও তার সহযোগী মিয়ারুল ও কিতাব নদীর পাড়ে স্তূপ করে রাখা মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছেন। যদিও ফিরোজুর রহমানের দাবি, আগের টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে আবেদন করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, নিলামের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কোনো দরপত্র আহ্বান কিংবা আগের নিলাম নবায়নের অনুমোদন ছাড়াই মাটি অপসারণ ও বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে গহরপুর এলাকায় কাজলা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, নদী খননের পর উত্তোলিত মাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে এস্কেভেটরের সাহায্যে মাটি কেটে ট্রাক্টরে বোঝাই করা হচ্ছে। পরে এসব মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

নিলামপত্রের অন্যতম শর্ত অনুযায়ী মাটি অপসারণের পুরো প্রক্রিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সম্পন্ন করতে হবে এবং অপসারিত মাটির পরিমাণ পরিমাপ রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে। কিন্তু মাটি অপসারণের ক্ষেত্রে এসব শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। বাপাউবোর কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও তদারকি ছাড়াই মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া এস্কেভেটর চালকের সাথে কথা বলে বেরিয়ে এসেছে এক ভিন্ন তথ্য। জানা গেছে মাটির খননের কাজে ব্যবহৃত এস্কেভেটরটি বলিয়ারপুর পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল রবিউলের।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির নীতিমালা উপেক্ষা করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এস্কেভেটর ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা করে আসছেন। রবিউল এর আগে মুজিবনগর থানায় কর্মরত ছিলেন। মুজিবনগর সহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি এস্কেভেটর ভাড়ার ব্যবসা করতেন এবং প্রায় চার বছর ধরে এস্কেভেটর ভাড়া দেয়ার ব্যবসা করে আসছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছেন। কাজলা নদীর মাটির অপসারণের কাজে বর্তমানে যে এস্কেভেটরটি ব্যবহার হচ্ছে সেটি কনস্টেবল রবিউলের বলে নিশ্চিত করেছেন এস্কেভেটর চালক।

এবিষয়ে জানতে কনস্টেবল রবিউলের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি এস্কেভেটর ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে ভালোভাবে খোঁজখবর নিতে বলেন।

সরকারি চাকরির নীতিমালা উপেক্ষা করে চাকরির পাশাপাশি এস্কেভেটর ভাড়ার ব্যবসা পরিচালনা করার বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি খোঁজ নিয়ে তারপর আপনার সাথে কথা বলছি। তবে বিষয়টি যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দরপত্রর মেয়াদোত্তীর্ণ এর বিষয়টি স্বীকার করে এস এম ফিরোজুর রহমান বলেন, কাজলার টেন্ডারটা আমার নামে। মেয়াদের আবেদন করা আছে। রবিবার-সোমবারে হাতে পাব। কাজটা শুরু করেছি গত পরশুদিন। নানা জটিলতা ছিল, বৃষ্টির কারণে শুরু করা হয়নি। যদি প্রয়োজন হয় আমি কাগজ নিয়ে ওখানে যাচ্ছি না হলে শহরে আসলে আমি কাগজ দেখাচ্ছি।

মাটি অপসারণের বিষয়টি জানতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাঈম কামাল, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) শান্ত দত্ত এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলমগীর হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা ফোন ধরেননি।

পরে সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হবার পর নতুনভাবে সেখানে কাজ করতে গেলে উপজেলা কমিটি এবং জেলা কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন। জেলা কমিটি যদি অনুমোদন দেয় তবেই তারা মাটি নিতে পারবে। তবে সেটা তারা পেয়েছে কিনা এখন পর্যন্ত আমি তা জানি না। তবে আমি যতটুকু জানি কাজটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। রবিবার অফিসে আসলে স্যারের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে পারবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category