দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ ও সংকটকালীন সময়ে মানবিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর উদ্যোগে পদ্মা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি ৫৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী চরচিলমারী গ্রামের ডিগ্রীরচর নামক স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি ২৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। একই দিনে বিজিবির উদ্যোগে চিলমারী, চল্লিশপাড়া ও রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আরও ৩০০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
চলমান বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পদ্মা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিম্নআয়ের মানুষ, দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকসহ স্থানীয় অনেক মানুষ কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিজিবি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন যশোর রিজিয়ন কমান্ডার, পিএসসি, বিজিওএম, বিপিএম (সেবা), পিবিজিএম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।
এ সময় কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক, ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক, জুনিয়র কর্মকর্তা ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবির এ মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় জনগণ ও উপস্থিত অতিথিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা দুর্যোগকবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বিজিবির এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগ ও সংকটকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির মানবিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিজিবি সীমান্তবর্তী জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সহায়তায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।