এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ হওয়ায় নুসরাত জাহান নাজনীন (১৮) ও ইয়াসিন আরাফাত (১৭) নামের পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: আশিষ কুমার সাহা। তিনি জানান এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ হওয়ায় নুসরাত জাহান নাজনীন নামে এক পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। দুপুর ১২ টার দিকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নাজনীন বরগুনার আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর রাওঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির মৃত: বশির মৃধার মেজো মেয়ে ও বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নুসরাত জাহান নাজনীন বরিশালের বাংলা বাজারে এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বড় বোন রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের নার্স নাসরিনের সাথে তিনি থাকতেন। সেই সুবাদে বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী হিসেবে এবছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেন। বৃহস্পতিবার ১৬ অক্টোবর এইচএসসির ফলাফল ঘোষণার পর গণিতের এমসিকিউতে অকৃতকার্য হওয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
এ ঘটনায় পরিবারসহ শোকের ছায়া নেমেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সহপাঠীরা এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।
বরিশাল সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো: মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে গলায় রশি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মরদেহ ময়নাতদন্ত করে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক৷নুসরাত জাহান নাসরিন ফলাফল ভালো করেছে। তবে তিনি হায়ার মেথ বিষয়ের এমসিকিউতে ফেল করেছেন। রেজাল্ট পুনঃবিবেচনার আবেদন করতে পারতেন তিনি। এমন সিদ্ধান্ত নেয়াটা খুবই দুঃখজনক।
অন্যদিকে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় বরগুনা জেলাধীন বামনা উপজেলার বাটাজোড় গ্রামের আবুল হোসেন ফরাজীর ছেলে ও আমুয়া কলেজের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত আত্মহত্যা করেছে।