কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগর-মরিচা ডিগ্রি কলেজের অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে ভাংচুর, লুটপাট ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউর রহমান মাসুমকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান ও তার ছোট ভাই ইউনুস আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৯ মে) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকার নিজ বাসা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে দৌলতপুর থানা পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, গ্রেফতারকৃত আব্দুল মান্নান (৫৮) ফিলিপনগর-মরিচা ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ। তিনি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকার মৃত ইসমাইল সরদারের ছেলে। অপর আসামি ইউনুস আলী (৪০) আব্দুল মান্নানের ছোটভাই। আব্দুল মান্নান নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ মামলার পলাতক আসামি মেহেদী (৩৩) ফিলিপনগর গ্রামের একরেজ প্রামানিকের ছেলে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউর রহমান মাসুম (৪৫) ফিলিপনগর-মরিচা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তিনি দৌলতপুর উপজেলার হিসনাপাড়া এলাকার মৃত রুস্তম আলীর ছেলে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দোসর আব্দুল মান্নান ও তার লোকজন অস্ত্রসহ কলেজে প্রবেশ করেন এবং অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে ল্যাপটপ, নথিপত্র ও টাকা লুট করে নিয়ে যান। এ সময় আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। আব্দুল মান্নান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, আব্দুল মান্নান ফিলিপনগর-মরিচা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি জেলা কৃষকলীগের সহসভাপতি ও আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী ও গণহত্যার পৃষ্টপোষক হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি কলেজের ছাত্র ও স্থানীয় লোকজনদের তোপের মুখে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
ফলে এলাকাবাসী, শিক্ষক কর্মচারী ও কলেজ কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আমাকে (বাদী মাসুমকে) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দ্বায়িত্বভার অর্পণ করেন। আমি কলেজের দ্বায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে আসামি আব্দুল মান্নান বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং আমাকে খুন জখম করার উপযুক্ত সুযোগ খুঁজতে থাকেন। আসামি আমাকে হুমকি দেওয়ায় ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দৌলতপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলাম।
এর আগে, গত ১৪ মে সকাল ১০টার দিকে ফিলিপনগর-মরিচা ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মান্নান ও তার লোকজন অস্ত্রসহ প্রবেশ করেন। এ সময় কলেজের অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে ভাংচুর, ল্যাপটপ ও টাকা লুট করেন। আসামিরা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউর রহমান মাসুমকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় গত শুক্রবার (১৭ মে) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউর রহমান মাসুম বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া আরও সাত-আটজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।