• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
বিএটিবির দাম কমানোর প্রস্তাবে রাজি হলে সিগারেটে রাজস্ব কমবে ২২০০ কোটি টাকা হেঁটে যাই বিদ্যালয়, দেহ-মন সুস্থ রয় শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীতে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল উদ্ধার গাংনীতে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ের নিচে ব্যাগ দেখে বোমা আতঙ্ক: ব্যাগে মিলল গমের ময়দা গাংনীতে সার বহনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে চালকের জরিমানা মুজিবনগরে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট শামীম গ্রেফতার নড়াইলে ৯ কার্যদিবসে ৫ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ঘাতকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকান্ডে সন্তানসহ কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দম্পতি নিহত মেহেরপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জেলা পরিষদের বৃত্তি প্রদান গাংনীতে ৪ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক: জেল-জরিমানা

গাংনীতে ক্রীড়া শিক্ষকের যৌন নিপিড়নে বিদ্যালয় ছাড়া স্কুলছাত্রী

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : সোমবার, ৩ জুন, ২০২৪
গাংনীতে ক্রীড়া শিক্ষকের যৌন নিপিড়নে বিদ্যালয় ছাড়া স্কুলছাত্রী
গাংনীতে ক্রীড়া শিক্ষকের যৌন নিপিড়নে বিদ্যালয় ছাড়া স্কুলছাত্রী

মেহেরপুরের গাংনীর বাওট সোলায়মানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ উঠেছে। লোক লজ্জা ও ভয়ে ঐ ছাত্রী বন্ধ করে দিয়েছে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া। এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসি। স্থানীয়দের মাঝে ঘটনা ছড়িয়ে পড়ায় আত্মগোপন করেছেন ঐ শিক্ষক। এদিকে প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন অভিযুক্ত শিক্ষককে বাঁচাতে গোপনে সমঝোতার চেষ্টা ও ঘটনাটি আড়াল করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, নিয়োগের কিছুদিন পর থেকেই শিক্ষক মিরাজুল ইসলাম বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের নানা ধরনের নানা অঙ্গভঙ্গিসহ কুরচিপূর্ণ কথা বলে আসছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে সপ্তম শ্রেনীর ঐ শিক্ষার্থীকে নানাভাবে যৌন হয়রানী করে আসছিলো। দিন পাঁচেক আগে শিক্ষক মিরাজুল ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে নিয়ে কু প্রস্তাব দেয়। লোক লজ্জার ভয়ে ছাত্রী বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানিয়ে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেয় ও পরিবারের লোকজনকে জানায়। সেই সাথে জানানো হয় বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গকে।

এলাকার কয়েকজন জানান, প্রতিটি ছাত্রীই একজন শিক্ষকের মেয়ে তুল্য। কীভাবে তাকে কুপ্রস্তাব দেয়? তার বিচার হওয়া প্রয়োজন। এজন্য ছাতিয়ান ও বাওট গ্রামের লোকজন ফুঁসে উঠেছে। রবিবার ও সোমবার এলাকার লোকজন বিদ্যালয়ের আশে পাশে অবস্থান নেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে শিক্ষক আত্মগোপন করেন। শিক্ষক মিরাজুল দুশ্চরিত্রের মানুষ। তাকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তারা।

এলাকাবাসি আরও জানান, ওই শিক্ষককে বাঁচাতে ও ঘটনা আড়াল করতে প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন মিথ্যাচার করেন। ঘটনাটি আদৌ সত্য নয় বলে প্রচার করতে চাইলে ওই শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের লোকজন পুরো ঘটনাটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরকে জানান। এর পরই প্রধান শিক্ষক দমে যান। এছাড়াও ঘটনার ৫দিন অতিবাহিত হলেও প্রধান শিক্ষক ওই ক্রিড়া শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেন নি এবং উর্ধ¦তন কর্মকর্তাকে অবহিত করেন নি।

কয়েকজন শিক্ষক জানান, ২০১৮ সালে এনটিআরসিএ থেকে নিয়োগ পান শিক্ষক মিরাজুল। তখন থেকেই তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ রয়েছে। এমতাবস্থায় প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ কারো কথায় কান না দিয়ে তাকে যোগদান করান। বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই ছাত্রীদের সাথে অসদাচরণ এবং বাজে ইঙ্গিত করতেন। হাসির ছলে কথা বলায় তখন কেউ কিছু মনে করতেন না। কিন্তু উত্যক্ত করা ছাড়াও ছাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ করায় সকলেই বিরক্ত।

প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন জানান, ক্রিড়া শিক্ষক মিরাজুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় ওই শিক্ষক আর বিদ্যালয়ে আসেন নি। আবার তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনটিও বন্ধ রেখেছেন। তাকে মৌখিকভাবে বিদ্যালয়ে না আসার জন্য বলেছি। সেই সাথে ওই শিক্ষার্থীকে ঘটনার বিবরন দিয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষককে বাঁচাতে গোপন আঁতাতের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাহাবুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনার পরের দিন ঘটনাটি শুনেছেন। প্রধান শিক্ষক তাকে ঘটনাটি জানান নি। লোকমুখে ঘটনাটি শুনে বিদ্যালয়ে আসেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে বলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category