মেহেরপুর সদর উপজেলা চাঁদবিল গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের যের ধরে তাসলিমা খাতুন (৪৮) নামের এক নারীকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ চাঁদবিল বিলের কচুরিপানার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। হত্যা করে বিলের কচুরিপানার মধ্যে গুম করার জন্য মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে মন্তব্য করেছেনে এলাকাবাসী। মৃত তাসলিমা চাঁদবিল দক্ষিণপাড়ার বরকত আলির মেয়ে ও চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ছাগল ফার্ম পাড়ার হান্নানের স্ত্রী।
ঘটনা সুত্রে জানাগেছে, ৩ সন্তানের জননী ৪৮ বছর বয়সী তাসলিমা নিজের বাবার বাড়িতে গত তিন বছর যাবত বসবাস করছেন, পৈত্রিক সম্পত্তির কিছু অংশ তিনি নিজেই চাষাবাদ করতেন। তবে পরিপুর্ন সম্পত্তির ভাগ থেকে তসলিমা কে বঞ্চিত করা হয়। সেই জমির অংশ বুঝে নিতে তসলিমা বাবার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছেন। এনিয়ে তাসলিমার বড় বোন উসলির সাথে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিলো। গতকাল বেলা ১২টা থেকে তাসলিমা নিখোঁজ ছিলেন, পরে অনেক খোজাখুজির পর, সকালে পুলিশের সহায়তায় কোলা চাঁদবিল সড়কের পাশে বিলের কচুরিপানার নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই তাসলিমাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি সন্তানদের।
এদিকে তাসলিমার হত্যাকাণ্ডে এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই বাড়ির দরজায় তালা লাগিয়ে শটকে পড়েছেন বড় বোন উসলিসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।
নিহতের ছেলে রনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি জমি নিয়ে নানার পরিবারের কিছু সদস্যের সাথে বিবাদ চলে আসছিলো। জমির বিষয় নিয়েই তার মা তছলিমা বাবার বাড়িতে এসেছিলেন। এটি একটি নৃসংশ্য হত্যাকান্ড বলে তিনি দাবি করেন। দ্রুত এর সাথে জড়িতদের আটক করে বিচারের আওতায় আনার দাবি করেন তিনি।
শুধুমাত্র জমি সংক্রান্ত বিরোধেই এমন নৃসংশ্য হত্যা নাকি অন্য কোন কারণ আছে তা খতিয়ে দেখে, হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন পরিবারের স্বজনসহ স্থানীয় গ্রামবাসী।
মেহেরপুর সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবা উদ্দীন জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়তদন্তের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে কিনা তা জানা যাবে। তবে তদন্ত অব্যহত রয়েছে। হত্যাকান্ড হয়ে থাকলে দ্রুত এর সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।