• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
নিয়ন্ত্রণহীন ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচে শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হুমকি বর্ণাঢ্য আয়োজনে মেহেরপুরে পালিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ বর্ণিল আয়োজনে গাংনীতে বাংলা বর্ষবরণ মুজিবনগরে গৃহবধূকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড গাংনীতে উপজেলা শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে মেহেরপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ মেহেরপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই হুসাইনের মৃত্যু প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন গাংনীতে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধন

গাংনীতে বিলুপ্ত প্রায় ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫
গাংনীতে বিলুপ্ত প্রায় ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত
গাংনীতে বিলুপ্ত প্রায় ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত

লাঠি খেলা, ঢোল আর লাঠির তালে তালে নাচা নাচি। অন্য দিকে প্রতিপক্ষের হাত থেকে আত্মরক্ষার কৌশল অবলম্বনের প্রচেষ্টা। সেই সাথে টান টান উত্তেজনা। ঐতিহ্যবাহী এই খেলাটি এখনো গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি অংশ ও বেশ জনপ্রিয়। আবহমানকাল ধরে বিনোদনের খোরাক যোগাচ্ছে এ লাঠি খেলা। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালে এমনি এ লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হল মেহেরপুরের গাংনীর ফুটবল মাঠে।

গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলার সভাপত্বিতে ‘গাংনী বাজার পাড়া উন্নয়ন সংস্থা’ আয়োজিত এ খেলার উদ্বোধন করেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন।

লাঠি খেলা অনুশীলনকারীকে লাঠিয়াল বলা হয়। এই খেলার জন্য লাঠি হয় সাড়ে চার থেকে পাঁচ ফুট লম্বা, তবে মসৃণ। প্রত্যেক খেলোয়ার তাদের নিজ নিজ লাঠি দিয়ে রণকৌশল প্রদর্শন করেন। লাঠির ঠক ঠক আওয়াজ আর ঢোলের শব্দের পাশাপাশি লাঠিয়ালদের হাঁকডাক ও দর্শকদের করতালি সৃষ্টি করে এক উৎসব মুখর পরিবেশ।

এ লাঠি খেলায় ৪ টি দল অংশ নেয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মাঠে নামেন লাঠিয়ালরা। তারা কখনও ঢোল আর কাঁশরের তালে তালে নেচে নেচে তাদের কসরত দেখান, আবার কখনও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চালান লাঠি ও সড়কি। প্রতিপক্ষ লাঠিয়াল সেই আঘাত ঠেকিয়ে প্রতিঘাত করতে সদা প্রস্তুত বেতের তৈরী ঢাল আর লাঠি নিয়ে। আবার কেউ কেউ লাঠিয়ে ঘুরিয়ে দর্শকদের আকৃষ্ট করেন।

কাজিপুর লাঠিয়াল বাহিনীর সর্দার আনিছুর রহমান জানান, আগের কালে ছিল জমিদারী প্রথা। সেকালে ছিল না এত আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানি। বিভিন্ন সময়ে জমিদারদের মধ্যে বিভিন্ন বিভেদ গায়ের জোরে মিমাংসা করা হত। এক্ষেত্রে যার যত লাঠিয়াল ছিল তার ততো বিজয়ী হবার সম্ভাবনা ছিল। আগের কালের জমিদার, জোতদাররা বংশ পরম্পরায় লাঠিয়াল পুষত। লাঠি দিয়ে আত্মরক্ষার কৌশল শেখাতেন লাঠিয়াল ওস্তাদেরা।

গাংনী পৌর লাঠিয়াল বাহিনীর লাঠিয়াল হাবিবুর জানান, এক সময় চোর ডাকাত আর প্রতিপক্ষের হামলা থেকে রক্ষা পেতে লাঠিখেলার কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। তাছাড়া দর্শকদের আনন্দেরও খোরাক এ খেলার কলা কৌশল ও শারীরিক কসরত। তবে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অংশ গ্রহণ বেশ ইতিবাচক বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন জানান, লাঠিখেলা শুধু আত্মরক্ষার কৌশলই নয়, এটি গ্রামীণ সাংস্কৃতির একটি অংশ। চিত্ত বিনোদনের পাশাপাশি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন অব্যহত রাখা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category