• মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সওজ’র সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী গাংনীর সেই আবু হেনা স্ত্রীসহ কারাগারে ঝিনাইদহে ফিলিং স্টেশনে উল্টো পথে তেল নিতে গিয়ে মারধরের শিকার ইউপি চেয়ারম্যান মেহেরপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় মেহেরপুরে অস্ত্র ও মাদকসহ আটক-২, পলাতক-১ গাংনীতে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ তেল না পেয়ে দিশেহারা ঝিনাইদহের বোরো চাষিরা মেহেরপুর শিশু পরিবারে যমুনা টেলিভিশনের এক যুগপূর্তি উদযাপন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে: আইনমন্ত্রী রাস্তায় পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর হামলায় মা-মেয়ে আহত পারিবারিক কলহ: বউয়ের মায়ের কামড়ে হাসপাতালে স্বামীর মা

কবিরাজি চিকিৎসার নামে গৃহবধূকে ধর্ষণের মামলায় কবিরাজের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
কবিরাজি চিকিৎসার নামে গৃহবধূকে ধর্ষণের মামলায় কবিরাজের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
কবিরাজি চিকিৎসার নামে গৃহবধূকে ধর্ষণের মামলায় কবিরাজের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

একটি সন্তানের আশায় কবিরাজি চিকিৎসা নিতে গিয়ে ধর্ষণের স্বীকার হয় এক গৃহবধু। ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত কবিরাজ মুজা শেখ ওরফে মুজা কবিরাজ নামের এক ব‍্যক্তির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারী) মেহেরপুর জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক আলী মাসুদ শেখ এই রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত মুজা কবিরাজ মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর শেখপাড়ার মৃত হযরত আলীর ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনার চিতল গ্রামের এক নিঃসন্তান দম্পতির দীর্ঘদিন ধরে সন্তান না হওয়ায় কবিরাজ মুজা শেখের কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে একই সালের ৮ মার্চ মুজা কবিরাজ তাকে তার বাড়িতে আসতে বলেন। ভুক্তভোগী গৃহবধু স্বামীসহ তার বাড়িতে আসলে কবিরাজ তাদের ঘরের মধ‍্যে অপেক্ষা করতে বলেন। অপেক্ষার একপর্যায়ে কবিরাজ ভুক্তভোগী ও তার স্বামীকে ওষুধ সেবন করায়। এসময় কৌশলে ভুক্তভোগীর স্বামীকে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে তাকে অজ্ঞান করে সেবাগ্রহীতা গৃহবধুকে জোরপুর্বক ধর্ষণ করেন।

পরে স্বামীর জ্ঞান ফিরলে গৃহবধু বিষয়টি তার স্বামীকে অবগত করে। ভুক্তভোগী নারী বাদি হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় একই দিনে কবিরাজ মুজা শেখের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পায়। এবং মেহেরপুর সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহা দারা খান ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর কবিরাজ মোজা শেখকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন, মেডিকেল রিপোর্ট এবং ১৩ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৩ (সংশোধিত) ৯/১ ধারায় অভিযুক্ত মুজা কবিরাজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন মেহেরপুর জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক আলী মাসুদ শেখ।

মামলায় আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন‍্যালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ‍্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, এই রায় সমাজে একটি বার্তা দেবে যে, ধর্মের দোহাই দিয়ে বা অপচিকিৎসার আড়ালে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। আমরা আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পেরেছি। আশা করি এই রায়ের ফলে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category