• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় চারজনকে মাফিয়ার কাছে বিক্রির অভিযোগ জাব্বারের বিরুদ্ধে আসন্ন দুর্গাপূজা উদযাপনে গাংনীতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত মেহেরপুরে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপন গাংনী হাসপাতালে রোগীর স্বর্ণের চেইন চুরি করতে গিয়ে নারী চোর আটক কাপড়ে মল ছিটিয়ে মেহেরপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধার ৪৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র তামাক নিয়ন্ত্রণের বড় বাঁধা কোম্পানির হস্তক্ষেপ আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা: সীমানা খুঁটি ভাংচুরের অভিযোগ গাংনীর কাজীপুর সীমান্তে ৪ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় মালামাল উদ্ধার গাংনীতে মাছ ব্যবসায়ীকে গাছে বেঁধে দুটি ভ্যান ও টাকা ছিনতাই পিকিং স্টার’ হাঁসে স্বাবলম্বী মেহেরপুরের বাঁধন-মাসে আয় ৪ লাখ টাকা

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় চারজনকে মাফিয়ার কাছে বিক্রির অভিযোগ জাব্বারের বিরুদ্ধে

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় চারজনকে মাফিয়ার কাছে বিক্রির অভিযোগ জাব্বারের বিরুদ্ধে
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় চারজনকে মাফিয়ার কাছে বিক্রির অভিযোগ জাব্বারের বিরুদ্ধে

ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে মেহেরপুরের গাংনীর চার যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়ার কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দালালের বিরুদ্ধে। সেখানে একটি অন্ধকার ঘরে ৬০ জনের বেশি বাংলাদেশিকে আটকে রেখে চালানো হতো নির্যাতন।

বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলত অমানবিক নির্যাতন। সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দাবি করা হতো মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ। টাকা দিতে গিয়ে কেউ হারিয়েছেন বসতভিটা, কেউ চাষের জমি। টাকা দেওয়ার পরও মিলত না মুক্তি। বরং আরও টাকার দাবিতে চলত নির্যাতন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় পা রাখার পর তাদের এমন পরিণতি হয়। একপর্যায়ে আরেক মাফিয়ার কাছে বিক্রির সময় সুযোগ বুঝে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন তারা। দেশে ফিরে মামলা করলেও তদন্তে আসামির নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় মেহেরপুর আদালতে গাংনী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইতালি প্রবাসী আবদুল জব্বারের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা।

দুটি পৃথক মামলার নথি, ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, গাংনীর এলেঙ্গী গ্রামের সামসুল আলমের স্ত্রী পারভীনা খাতুন (সিআর মামলা নং: ২৭আই/২০২৫) এবং সালদাহ গ্রামের মামুনুর রশীদ আদালতে মামলা দুটি করেন।

সামসুল আলমের মামলার আরজিতে বলা হয়, ১৪ লাখ টাকা চুক্তিতে ভারত, শ্রীলঙ্কা, দুবাই, সুদান ও মিসর হয়ে তাকে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে জানালাবিহীন একটি কক্ষে আটকে রেখে দিনে এক গ্লাস পানি ও একটি ‘খাপসা’ রুটি দেওয়া হতো। ২০২৪ সালের আগস্টে জব্বারের নির্দেশে সামসুলকে একটি মাফিয়া চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাকে উল্টো ঝুলিয়ে পেটানো হতো এবং নির্যাতনের ভিডিও ও আর্তনাদ পরিবারের কাছে পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হতো।

সামসুল আলমের স্ত্রী পারভীনা খাতুন জানান, চুক্তি ১৪ লাখ টাকা হলেও স্বামীকে বাঁচাতে জব্বার ও তার সহযোগীদের ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে মোট ৪৬ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। জমি ও বাড়ি বিক্রি করে তিনি এ টাকা জোগাড় করেন। দীর্ঘ নির্যাতনের পর ২০২৫ সালের মে মাসে সামসুল পালিয়ে ইতালিতে পৌঁছালেও বর্তমানে তিনি রোমের একটি কারাগারে আটক আছেন।

অপর ভুক্তভোগী মামুনুর রশীদ জানান, ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে ফেনীর ‘মনা’ নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ২৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করার ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। পরে লিবিয়ার মরুভূমি পাড়ি দিয়ে একটি মসজিদে আশ্রয় নেন তিনি। এরপর আরও অর্থ খরচ করে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফেরেন।

মামুনুরের পরিবার জানায়, জব্বারের স্ত্রী লিপা খাতুনের ব্যাংক হিসাবেও তারা টাকা জমা দিয়েছেন। তবে টাকা চাওয়ার পর জব্বারের ভাই আকুব্বার তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এদিকে মামলার প্রধান আসামি জব্বারের স্ত্রী লিপা খাতুন ও ভাই মান্নানের নাম তদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তা গাংনী থানার এসআই অতুলের সঙ্গে জব্বার পরিবারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জব্বারের স্ত্রী ও তার ভাইকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তবে মামুনুর রশীদ চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই অতুল জোয়াদ্দার দাবি করেন, বিধি মেনেই তদন্ত করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হলেই কেউ আসামি হয়ে যায় না। চার্জশিটে লিপা ও মান্নানের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে অভিযুক্তের ভাই আকুব্বার ও স্ত্রী লিপা খাতুন মানব পাচার ও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, জব্বার কেবল সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার পথ দেখিয়েছেন, কোনো টাকা নেননি।

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় জানান, বিদেশে কাউকে আটকে রেখে নির্যাতন, শোষণ বা মুক্তিপণ দাবি করা মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category