সংবাদ সংগ্রহকালে দুই সাংবাদিককে মারধর করে আটকে রাখা এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামী কাজীপুর ডিগ্রি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুজ্জামান বাবর আলী (৪৫) ও মনিরুজ্জামান বিপ্লব (৪৫) নামের এজাহারভুক্ত দুই জনকে গ্রেফতার করেছে গাংনী থানা পুলিশ। রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর শহরের কোর্ট মোড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ডিগ্রি কলেজে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দিচ্ছে এমন সংবাদ সংগ্রহ করতে যায় দুজন সাংবাদিক। এই উন্মুক্ত ভাবে বই খুলে নকল করার দৃশ্য ধারণ করতে যান নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহম্মেদ ও দৈনিক খবরের কাগজের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি তারেক হোসেন। এসময় দুই শিক্ষকসহ ৮-১০ শিক্ষার্থী তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। পরে তাদের দুটি মোবাইল ফোন ও নাগরিক টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোন নিয়ে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
হামলায় আহত রাব্বি ও তারেক হোসেনকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা গাংনী থানায় গিয়ে মামলা করেন।
এ ঘটনায় দুই শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লব ও রফিকুজ্জামান বাবর আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ৪৬/২৬। এতে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৭৯, ১১৪ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা হওয়ার পর থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে নামে গাংনী থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৯ টার দিকে তেঁতুলবাড়িয়া এলাকা থেকে খায়রুজ্জামান ওরফে আকামত নামে এক জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, সাংবাদিককে মারধরের মামলায় মেহেরপুর কোর্ট মোড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। তদন্তে ঘটনায় কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।