• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
নিয়ন্ত্রণহীন ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচে শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হুমকি বর্ণাঢ্য আয়োজনে মেহেরপুরে পালিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ বর্ণিল আয়োজনে গাংনীতে বাংলা বর্ষবরণ মুজিবনগরে গৃহবধূকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড গাংনীতে উপজেলা শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে মেহেরপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ মেহেরপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই হুসাইনের মৃত্যু প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন গাংনীতে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধন

নিয়ন্ত্রণহীন ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচে শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হুমকি

বিবর্তন ডেস্ক:
Update : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
নিয়ন্ত্রণহীন ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচে শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হুমকি
নিয়ন্ত্রণহীন ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচে শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হুমকি

তামাক ব্যবহার হ্রাসের জন্য তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি পাশ করায় আমরা সরকারকে অভিনন্দন জানাই। তবে বিলটি পাশের ক্ষেত্রে ইমার্জিং টোবাকো প্রোডাক্ট (ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট) ইত্যাদি দ্রব্যকে ধারা ২(গ) সংজ্ঞা হতে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধানও বিলুপ্ত করা হয়েছে। এই বিলুপ্তির প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুসরণ করেনি, যা সত্যিই দুঃখজনক।

ফলে এই নতুন দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কার্যত বাংলাদেশে কোনো আইন রইল না। ফলে ইমার্জিং টোবাকো প্রোডাক্ট- এর মতো নেশা দ্রব্য শিশু-কিশোরদের নিকট বিক্রিতে বিক্রেতাদের কোনো বাধা নেই। এ অবস্থায় দেশের শিশু কিশোর নতুন নেশা পণ্যের দ্বারা নিকোটিনে আসক্ত হওয়ার সম্ভবনা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেলো। বিক্রেতারা যেকোনো বয়সীদের নিকট এই নেশাদ্রব্য বিক্রয় করবে। ফলে এটি শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় তামাক বিরোধী ৬ টি সংগঠন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটস (বিটিসিএ), বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), পাবলিক হেলথ ল’ ইয়ার্স নেটওয়ার্ক (পিএইচএল), তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) ও সিটিজেন্স ফর সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট (সিএসডি) যৌথভাবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

“নিয়ন্ত্রণহীন ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হুমকি” শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন, সিএসডির আহ্বায়ক একেএম মাকসুদ। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যাডভোকেটসের আহ্বায়ক ইকবাল মাসুদ, বিএনটিটিপি’র টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক বজলুর রহমান, চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও শিশু বিশেষজ্ঞ শাহ ইসরাত আজমেরী, বাটার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শাগুফতা সুলতানা, তাবিনাজের সমন্বয়ক সীমা দাস সীমু ও পিএইচএলের অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা কুমকুম। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক ফারহানা জামান লিজা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ সামিউল হাসান সজীব।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট বাংলাদেশে প্রসারের ক্ষেত্রে দুটি বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণ পন্থা রয়েছে। এক, আমদানি আদেশের আওতায় এ দেশে ই-সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ রয়েছে। দুই, মহামান্য আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে। ফলে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট প্রসারের প্রচেষ্টা আপিল বিভাগের নির্দেশনার পরিপন্থি।
তারা আরও বলেন, আমদানি আদেশে নিষিদ্ধ, অধ্যাদেশে নিষিদ্ধ, মাহমান্য আপিল বিভাগের নির্দেশনা এবং সর্বোপরি বাংলাদেশে এই দ্রব্যের ব্যবহার কম থাকার পরও দেশের অর্থনীতির কথা বলে এই নতুন নেশা দ্রব্য নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দেশে বাজার সৃষ্টি করার সুযোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। বাংলাদেশে ইমাজিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট-র ব্যবহার নেই বললেই চলে। দেশের অর্থনীতির দোহাই দিয়ে এ বিধান বাতিল সত্যিই দুঃখজনক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষণা সেল টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি) এর গবেষণার বিষয়ে আলোকপাত করে সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, টিসিআরসির গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে তরুণদের আকৃষ্ট করতে ই-সিগারেট দোকান গুলো বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক (তথা আশেপাশে) গড়ে তোলা হয়েছে। তরুণদের আকৃষ্ট করতে তারা অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন তৈরি করছে। তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন অপকৌশলের মাধ্যমে তরুণদের আবার ই-সিগারেটের দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। তবে বিগত এক বছর নিষিদ্ধ থাকায় এ প্রবণতা বহুলাংশে হ্রাসে পেয়েছিলো।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘গ্লোবাল টোব্যাকো এপিডেমিক-২০২১’ রিপোর্ট অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS) আসক্তি তৈরি করে এবং এটা মোটেও নিরাপদ নয়, যে কারণে ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইরান, ইরাক, ওমান, কাতারসহ বিশ্বের মোট ৪৭টি দেশে ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS)/ই-সিগারেট বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই পণ্যটিকে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (NRT) হিসেবে অনুমোদন দেয়নি। এই পণ্যের ক্ষতি বিবেচনায় বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে নিকোটিন পাউচের উৎপাদন, আমদানি ও বিপণন নিষিদ্ধ করেছে। ফলে যেকোনো অজুহাতে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচকে বৈধ করার সুযোগ নেই।

ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধানটি বাতিল করার মাধ্যমে যে ভুল হয়েছে সেটা সংশোধনের লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে ৩টি দাবি জানানো হয়েছে। এ দাবিগুলো হলো: ১. ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধে পৃথক আইন প্রণয়ন করা; ২. আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে নতুন তামাক কোম্পানি অনুমোদনের বিধান অনুসরণ করা এবং ৩. ই-সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ বহাল রাখা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category