• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
পুলিশ উপস্থিততে বোমা সদৃশ বস্তু সরানোর কাজে স্থানীয় দুই ব্যক্তি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন গাংনীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন মেহেরপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মেহেরপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে দশ লক্ষাধিক টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার মেহেরপুরে মুদি ব্যবসায়ীর গেটে বোমা, চিরকুট ও কাফনের কাপড় ঝুলিয়ে হত্যার হুমকি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সনদ গ্রহণ করলেন দেশ সেরা কাবাডি খেলোয়াড় মেহেরপুরের মীর সাফি মুজিবনগর সীমান্তে শূন্যরেখায় বাবাকে মেয়ের শেষ বিদায় মেহেরপুর হাসপাতালে নতুন টেন্ডার বরাদ্দ অপরিবর্তিত রেখেই রোগীর খাবারে কাটছাট মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা সানিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা ঝিনাইদহ সীমান্ত এলাকা থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

পুলিশ উপস্থিততে বোমা সদৃশ বস্তু সরানোর কাজে স্থানীয় দুই ব্যক্তি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
পুলিশ উপস্থিততে বোমা সদৃশ বস্তু সরানোর কাজে স্থানীয় দুই ব্যক্তি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
পুলিশ উপস্থিততে বোমা সদৃশ বস্তু সরানোর কাজে স্থানীয় দুই ব্যক্তি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

মেহেরপুর সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামে এক মুদি ব্যবসায়ীর বাড়ির প্রধান ফটকে কাফনের কাপড়, হত্যার হুমকিসংবলিত চিরকুট ও বোমা সদৃশ বস্তু ঝুলিয়ে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে এসব সামগ্রী দেখতে পেয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে। তবে হত্যার হুমকির এ ঘটনার পাশাপাশি বস্তুগুলো উদ্ধারের প্রক্রিয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু রাখা ব্যাগটি সরানো ও পানিতে ডোবানোর কাজে অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় দুই ব্যক্তি। এতে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এমন কাজ করানোর যৌক্তিকতা এবং পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে পুলিশের দবি অতি উৎসাহিত হয়ে তারা নিজে থেকেই কাজটি করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার রুহুল আমিনের ছেলে মুদি ব্যবসায়ী পিন্টুর বাড়ির প্রধান ফটকে রাতের কোনো এক সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা একটি শপিং ব্যাগ ঝুলিয়ে রেখে যায়। শুক্রবার ভোরে পিন্টুর ছোট ভাই সুমন বাড়ির গেটের তালা খুলে বাইরে যাওয়ার সময় ব্যাগটি দেখতে পান। প্রথমে তিনি ধারণা করেছিলেন, দোকানের জন্য কেউ হয়তো মালামাল রেখে গেছে। পরে মোবাইল ফোনের আলো জ্বেলে ব্যাগের ভেতরে কাফনের কাপড়, তিনটি ককটেল সদৃশ বস্তু এবং তিন পাতার একটি হুমকির চিরকুট দেখতে পান। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানান। পরে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।

খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রামদাসপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রিকাবুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সামগ্রীগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

তবে ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতিতে বস্তুগুলো সরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির গেটে ঝুলিয়ে রাখা ব্যাগটির আশপাশে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি উৎসুক মানুষের ভিড় রয়েছে। এ সময় কালো প্যান্ট ও সাদা শার্ট পরা এক যুবক কালো রঙের একটি বালতিতে পানি নিয়ে ব্যাগটি ডুবানোর চেষ্টা করছেন। কিছুক্ষণ পর গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরা আরেক যুবকও সেখানে এগিয়ে আসেন। তাঁকে ব্যাগটির কাছে যেতে দেখে আশপাশের লোকজন সতর্ক করেন। একপর্যায়ে ব্যাগটি ধরার সময় পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই যেভাবে ধরছিস, এটা তো তোর জন্য রিস্ক।’

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, এ সময় কাছাকাছি এসআই রিকাবুল উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ইশারা করে ব্যাগটি আরও ভালোভাবে পানিতে ডুবানোর নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। অথচ ওই দুই ব্যক্তির হাতে কোনো দৃশ্যমান সুরক্ষাসামগ্রী ছিল না। তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখার উদ্যোগও ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়নি।

সন্দেহভাজন বিস্ফোরক উদ্ধারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ধরনের বস্তু পাওয়া গেলে প্রথমেই ঘটনাস্থল নিরাপদ করা, আশপাশের মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রশিক্ষিত বিশেষায়িত দলের সহায়তা নেওয়া জরুরি। কারণ, বিস্ফোরক সদৃশ কোনো বস্তু না বুঝে স্পর্শ করা, সরানো কিংবা নাড়াচাড়া করলে যেকোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ অবস্থায় ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকার পরও কেন সাধারণ দুই ব্যক্তিকে দিয়ে ব্যাগটি সরানোর কাজ করানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রমে প্রচলিত নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

সচেতন মহলের মনে করেন, সন্দেহভাজন বিস্ফোরক উদ্ধারের মতো সংবেদনশীল কাজে পুলিশের পেশাগত দক্ষতা, সতর্কতা ও নিরাপত্তাবিধি অনুসরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অতি উৎসাহী হয়ে কেউ যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে চাই তাকেও পুলিশের পক্ষ থেকে নিবৃত করা এবং মানুষের জীবন যেন কোনোভাবেই ঝুঁকির মুখে না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

এবিষয়ে রামদাসপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ রিকাবুল ইসলাম জানান, আমরা কিন্তু বলি নাই। আমরা বুঝে ওঠার আগেই ব‍্যাগটি নিয়ে চলে আসছে। মূলত প্রাথমিক তদন্তের জন‍্য সেখানে আমরা দুইজন গিয়েছিলাম। অতি উৎসাহি হয়ে তারা এই কাজটি করেছে। আমরা তাদের বলেছি এটা নিয়ে যেভাবে ছেলেখেলা করছেন এটি কিন্তু সেরকম জিনিস না।

এবিষয়ে জানতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ‍্যান্ড অপস) জামিনুর রহমান খানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category