• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সনদ গ্রহণ করলেন দেশ সেরা কাবাডি খেলোয়াড় মেহেরপুরের মীর সাফি মুজিবনগর সীমান্তে শূন্যরেখায় বাবাকে মেয়ের শেষ বিদায় মেহেরপুর হাসপাতালে নতুন টেন্ডার বরাদ্দ অপরিবর্তিত রেখেই রোগীর খাবারে কাটছাট মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা সানিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা ঝিনাইদহ সীমান্ত এলাকা থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আ.লীগ-ছাত্রলীগ তছনছ শুরু করেছে- রাশেদ খান কলেজের পরিবেশ ফেরাতে কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ এক দিকে মায়ের মমতা, অন্যদিকে আইন-কালীগঞ্জ ইউএনও মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে বাঁধার প্রতিবাদে মেহেরপুরে মানববন্ধন গাংনীর সীমান্তে কুষ্টিয়া বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার

মুজিবনগর সীমান্তে শূন্যরেখায় বাবাকে মেয়ের শেষ বিদায়

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
মুজিবনগর সীমান্তে শূন্যরেখায় বাবাকে মেয়ের শেষ বিদায়
মুজিবনগর সীমান্তে শূন্যরেখায় বাবাকে মেয়ের শেষ বিদায়

সীমান্তের তীক্ষ্ন কাঁটাতার হয়তো দূরত্ব বাড়িয়েছিল, কিন্তু সম্পর্কের টান একটুও কমাতে পারেনি। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর বাবার মুখোমুখি হলেন বড় মেয়ে ফিরদৌসী খাতুন। কিন্তু সেই দেখা কোনো আনন্দের ছিল না, ছিল অশ্রুসজল শেষ বিদায়ের মুহূর্ত।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুরের মুজিবনগর স্বাধীনতা সড়কের ১০৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখা (বেলতলা) এলাকায় ঘটে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশে থাকা মেয়ে তাঁর প্রয়াত বাবাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত মোনরুদ্দিন শেখের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছরেরও বেশি। তাঁর ছয় সন্তানের (তিন ছেলে ও তিন মেয়ে) মধ্যে বড় মেয়ে ফিরদৌসী খাতুনের বিয়ে হয় বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের সোনাপুর নতুন পাড়ায়।

প্রায় সাড়ে চার দশক আগে যখন কাটাতারের রেড়া ছিলো না সেই সময় ইসরাফিলের সঙ্গে বিয়ের পর বাংলাদেশে স্থায়ী হন ফিরদৌসী। পরবর্তীতে সীমান্ত জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া উঠে গেলে বাবার পরিবারের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ও দেখাশোনা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েন ফিরদৌসী। খবরটি পাওয়ার পর বাবাকে শেষবারের মতো এক নজর দেখার আকুতি জানান তিনি। তাঁর এই মানবিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে সীমান্তেই শেষ বিদায়ের ব্যবস্থা করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবির মুজিবনগর সদর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার এনায়েত হোসেন এবং ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এএসআই সুনীল কুমারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বিরতি শেষে সীমান্তের শূন্যরেখায় বাবাকে শেষ বিদায় জানানোর এই দৃশ্য সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। পরিবারের পক্ষ থেকে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category