বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত টেঙ্গুর ওই গ্রামের মৃত দৈয়ব মণ্ডলের ছেলে।
আহতরা হলেন- বজলুর রহমান (৫৫), রাশিদুল ইসলাম (৩৫), সুমন মিয়া (৫০), হাদু মণ্ডল (৭০), ফটিক (৫৫), আজাদ মণ্ডল (৬০) ও রাজু মণ্ডল (৩০)। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত টেঙ্গুরের বড় ভাই পটল রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে, ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজাহার মেম্বার বর্তমান সংসদ সদস্যের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের নেতৃত্বাধীন দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, দুই থেকে তিন দিন আগে ভারত থেকে আসা মাদককে কেন্দ্র করে আজাহার মেম্বারের গ্রুপের লোকজনের সাথে পটলের বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে দুই গ্রুপের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে আজাহার মেম্বার ও পটল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে পটল গ্রুপের প্রধান পটলের ছোট ভাই টেঙ্গুর সড়কির আঘাতে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের দাবি, সড়কির আঘাতে তার পেট গুরুতরভাবে জখম হয়।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, দুই গ্রুপের মধ্যে দুই-তিন দিন ধরে বাকবিতন্ডা ও উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে টেঙ্গুর নামে একজন নিহত এবং পাঁচ থেকে আটজন আহত হয়েছেন। ভারত থেকে আসা মাদক বা পাতার বিড়ির ব্যবসা কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হতে পারে।
দৌলতপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।