আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গণতন্ত্র ফেরাতে গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে ফ্যাসিস্টরা সাড়ে চার হাজারের বেশি সহযোদ্ধাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার যাই হোন না কেন, রাজনীতির পাঠশালা জীবন বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় পাঠশালা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুলে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, তাদের অপরাধ ছিল তারা গণতন্ত্র চেয়েছিলেন এবং নিজের ভোট নিজে দিতে চেয়েছিলেন। একটি দাবির জন্য এত মানুষকে স্বজনহারা হতে হয়েছে। নিহতদের স্বজনরা এখনও নামাজের পাটিতে বসে কাঁদেন।
তিনি বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই, যেখানে সামাজিক নিরাপত্তা থাকবে। বিশেষ করে নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছে।
ন্যাটোর আদলে গঠিত পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরষ্কের জোট মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, সবকিছু বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে, বাংলাদেশও নিজস্ব নীতি অনুযায়ী কাজ করবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ই-জুডিশিয়ারি বা বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন নিয়ে সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, ভারত সব সময় দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ছিল ভারতের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে। ভারতের কাছ থেকে এর বিপরীত আচরণ দেখা গেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফরে যাবেন। তবে তার আগে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাই।