• রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
গাংনীর তপন হত্যা মামলার পলাতক আসামি মন্টু শাহ গ্রেফতার গাংনীতে দুর্বৃত্তের আগুনে পুড়ে ছাই হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীর স্বপ্ন মেহেরপুরে ৩৫০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক-২ ইসলামনগর মৌজায় অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবিতে বাহাগুন্দা গ্রামবাসীর বিক্ষোভ গাড়াবাড়িয়ায় বিএনপি নেতার নাম ভাঙিয়ে জমি দখল, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি’র প্রতিরোধ মেহেরপুরে পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের জন্মদিন পালিত মেহেরপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু মেহেরপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা শ্বশুরের! আদালতে মামলা, তদন্তের নির্দেশ গাংনীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সার ব্যবসায়ির জরিমানা

রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

বিবর্তন ডেস্ক:
Update : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড
রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের স্কুলছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর নারী ও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিন কারাগার থেকে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। অপরদিকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একই মামলার আরেক আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে নেওয়া হয়। এরপর দুজনকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। রায় ঘোষণার আগে তাদেরকে আদালতে উপস্থিত করা হয়।

গত বৃহষ্পতিবার(৪ জুন) রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু যুক্তি উপস্থাপন শুনানির সময় বলেন, আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তি, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জব্দ আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান তিনি। অপরদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ যুক্তি উপস্থাপন করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, এটা একটা চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ঘটনার পরপর আসামির গ্রেফতার, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং বিচার শুরু অল্প সময়ে শেষ করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। আসামি সোহেল রানা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া ও নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় তার জন্য আইনের ধারা অনুযায়ী তার সর্বনিম্ন শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রার্থনা করেন আইনজীবী। এছাড়া অপর আসামি স্বপ্নার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি না থাকা এবং কোথাও তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার সুস্পষ্ট অভিযোগ না থাকায় শুধুমাত্র লাশ গুম চেষ্টায় সহযোগিতার অপরাধের শাস্তি সংশ্লিষ্ট আইনে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড চান এই আইনজীবী। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক রায় ঘোষণার জন্য এদিন ধার্য করেন।

গত ৩ জুন আত্মপক্ষ শুনানিতে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার নিজেদের নির্দোষ দাবী করে খালাস চান। গত ২ মার্চ মামলার বাদীসহ ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এছাড়া শিশু সাক্ষী হওয়ায় রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের বক্তব্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়।

এরপর ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন ও কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা এসআই ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্ত প্রস্তুত করা ডা. নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই অহিদুজ্জামান পর্যায়ক্রমে ১৬ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। গত ১ জুন আদালত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category