• মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সওজ’র সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী গাংনীর সেই আবু হেনা স্ত্রীসহ কারাগারে ঝিনাইদহে ফিলিং স্টেশনে উল্টো পথে তেল নিতে গিয়ে মারধরের শিকার ইউপি চেয়ারম্যান মেহেরপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় মেহেরপুরে অস্ত্র ও মাদকসহ আটক-২, পলাতক-১ গাংনীতে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ তেল না পেয়ে দিশেহারা ঝিনাইদহের বোরো চাষিরা মেহেরপুর শিশু পরিবারে যমুনা টেলিভিশনের এক যুগপূর্তি উদযাপন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে: আইনমন্ত্রী রাস্তায় পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর হামলায় মা-মেয়ে আহত পারিবারিক কলহ: বউয়ের মায়ের কামড়ে হাসপাতালে স্বামীর মা

সওজ’র সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী গাংনীর সেই আবু হেনা স্ত্রীসহ কারাগারে

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
সওজ’র সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী গাংনীর সেই আবু হেনা স্ত্রীসহ কারাগারে
সওজ’র সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী গাংনীর সেই আবু হেনা স্ত্রীসহ কারাগারে

১০ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ ও সম্পদ অর্জন এবং তার তথ্য গোপনের অভিযোগে প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং তার স্ত্রী ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত রবিবার (৫ এপ্রিল) পাবনা বিশেষ (জেলা জজ) আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিন দুদকের দায়েরকৃত মামলায় আবু হেনা ও তার স্ত্রী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। এসময় বিচারক আবু সালেহ্ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন খাঁ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী মনোয় কুমার দাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামালের বাড়ি গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের ঝোড়পাড়া গ্রামে। অভিযোগ রয়েছে এলাকার বিভিন্ন স্থানে তিনি নামে-বেনামে অনেক জমি কিনেছেন। সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোগ সাজসে এসব জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে। দুদক তার সম্পদ অনুসন্ধানকালে গাংনী সাব রেজিস্ট্রি অফিসে পত্র দেয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে তার মালিকানা জমির বেশ কয়েকটি তথ্য গোপন রেখে সামান্য পরিমাণ কিছু জমির তথ্য দেয়। অধিকতর তদন্ত চালালে তার অবৈধ সম্পদের ফিরিস্তি বেরিয়ে আসবে বলে এলাকার বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। এছাড়াও তার আপন ভাইয়ের সাথে অমানবিক ও নিষ্টুর আচরণের অভিযোগ রয়েছে। একসাথে তারা ঘরবাড়ি নির্মান করলেও আবু হেনা শক্তি খাটিয়ে দখল করে নেয়। ভাই ও ভাবিকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করে।

দুদকের আইনজীবী জানান, ২০২৩ সালের ৬ জুলাই দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সাবেক উপ-পরিচালক খায়রুল হক বাদী হয়ে আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও তার স্ত্রী ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন। ২০২৪ সালের ১০ জুলাই স্ত্রী জোবাঈদা শাহনূর রশীদ ও চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রট অনুমোদন দেয় দুদক।

দুদকের আইনজীবী আরও জানান, আসামিরা উচ্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত দুজনের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। এরপর তারা পাবনা স্পেশাল জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানান। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার অজুহাত দেখিয়ে শুনানির জন্য আদালতের কাছে সময় চান। এভাবে কয়েক দফা তারিখ নিয়ে শুনানিতে কালক্ষেপণের পর আজ আদালতে এসে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০২২ সালের ২৩ জুন আসামি আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং তার স্ত্রী শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের প্রভাষক ডা. জোবাইদা শাহনূর রশীদের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী জমা দিতে আদেশ জারি করে দুদক। এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৬ আগস্ট পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সম্পদ বিবরণী জমা দেন আবু হেনা মোস্তফা কামাল। যেখানে তিনি স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে দুই কোটি ২১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৯২ টাকার সম্পদের হিসাব জমা দেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে মোট তিন কোটি ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৭৩ টাকার সম্পদের তথ্য প্রমাণ মেলে। অর্থাৎ এখানে তিনি ৯১ লাখ ১৩ হাজার ৮১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পাশাপাশি তার স্ত্রীকে দানসহ পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসাব করলে দুদকের অনুসন্ধানে মোট সাত কোটি ৮৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭৬০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। যার মধ্যে গ্রহণযোগ্য আয় এক কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার ২৬৭ টাকা। যা বাদ দিলে ছয় কোটি ৩৫ লাখ ৪ হাজার ৪৯৩ টাকার সম্পদের উৎস দেখাতে পারেননি তিনি।

একইসঙ্গে অবৈধ ওই সম্পদের মধ্যে আসামি আবু হেনা মোস্তফা কামাল তার মায়ের দান করা ছয় কোটি ২০ লাখ টাকা তার আয়কর নথির ২০০১-২০০২ করবর্ষ থেকে ২০০৬-২০০৭ করবর্ষ পর্যন্ত প্রদর্শন করেছেন। এ টাকা থেকে তিনি তার স্ত্রী ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদকে বিভিন্ন সময়ে দুই কোট ৭০ লাখ টাকা দান করেছেন। যা তাদের উভয়ের আয়কর নথিতে এ দান গ্রহণ ও প্রদানের বিষয়টি প্রদর্শিত রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান বা যাচাইকালে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, আসামি আবু হেনা মোস্তফা কামাল তার ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয়কে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে বৈধতা দানের জন্য অসৎ উদ্দেশ্যে প্রথমে তার মায়ের আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেন। পরে তা দান হিসেবে নিজের আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেছেন।

অন্যদিকে স্ত্রী ডা. জোবাইদা শাহনূর রশীদ দুদকে জমা দেওয়া তার সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট দুই কোটি ৪০ লাখ ১৭ হাজার ৭৩১ টাকার সম্পদের তথ্য দেন। অনুসন্ধান বা যাচাইকালে তার নামে মোট দুই কোটি ৪৪ লাখ ৬২ হাজার ৩১ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি চার লাখ ৪৪ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধানকালে আরও দেখা যায়, আসামি ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদের নিট সম্পদ, পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ চার কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৫০৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। যার মধ্যে তার গ্রহণযোগ্য আয় এক কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৫৭ টাকা বাদ দিলে দুই কোটি ৭৩ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫২ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়। যার মধ্যে দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা তার স্বামী আবু হেনা মোস্তফা কামাল থেকে দান সূত্রে প্রাপ্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category