• শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার উদ্যোগে এনবিআরকে বিএনটিটিপির ধন্যবাদ জ্ঞাপন মেহেরপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘরে মাদকবাহী প্রাইভেটকার: গাঁজাসহ চালক আটক জনমত গঠনের জন্য কাজ করছে হেজবুত তাওহীদ-এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বৃষ্টিতে ডুবেছে চট্টগ্রাম, বুকসমান পানিতে মানুষের ভোগান্তি আর দুর্ভোগ ইরানে আশার আলো ছড়াচ্ছে এশীয় চিতা জাল নোটের প্রচলন রোধে নতুন আইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী  মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে জাতিকে বিভক্ত না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাংনীতে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে তিনজন আহত মেহেরপুরের উন্নয়ন ভাবনা- কবি রফিকুল ইসলাম

দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামু গ্রেফতার

জিয়াউর রহমান, কুষ্টিয়া
Update : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামু গ্রেফতার
দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামু গ্রেফতার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামু (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। জামিরুল ইসলাম জামু উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের শীতলাইপাড়ার গ্রামের আবু আফফানের বড় ছেলে।

জামিরুল ইসলাম (জামু)র বিরুদ্ধে আপন চাচীকে হত্যার দায়ে মেহেরপুর গাংনী থানায় একটি মামলা দায়ের হলে সেই মামলায় বিজ্ঞ আদালতের রায়ে সে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়। এরপর থেকেই জামিরুল ইসলাম জামু যাবজ্জীবন সাজা মাথায় নিয়ে পলাতক অবস্থায় দিন পার করছিলেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীররাত দিকে উপজেলার শীতলাইপাড়া গ্রামে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে তারিকুল হোসেনকে (৩০) কে জামিরুল ইসলাম জামুসহ ৮-১০ জন ব্যক্তি তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনগণ তাদের ধাওয়া করে।

এমন অবস্থায় ধাওয়া খেয়ে জামিরুল জামু গ্রুপের সকল সদস্য পালিয়ে গেলেও জামিরুল ইসলাম জামুকে ধরে ফেলে স্থানীয় জনগণ। পরবর্তী তারা স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে থানা পুলিশ জামিরুল ইসলাম জামুকে সাজা প্রাপ্ত ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে থানা হেফাজতে নেয়।

এবিষয়ে, ভুক্তভোগী তারিকুল ইসলাম জানান, সাজাপ্রাপ্ত হত্যা মামলার আসামি জামিরুল ইসলাম জামুসহ তার দলবল আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাতে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনগণ টের পেয়ে তাদেরকে ধাওয়া করে এমন অবস্থায় তারা কোন উপায় না পেয়ে আমাকে একটি বাঁশঝাড়ের মধ্য হাত পা বেঁধে ফেলে রাখে এবং স্থানীয় জনগণ জামিরুল ইসলাম জামুকে ধরে ফেলে ও আমাকে উদ্ধার করে।

জামু গ্রুপের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা আমাকে সহ আমার বংশীয় লোকজনকে নানা ধরনের মিথ্যা মামলাতে ফাঁসিয়ে হয়রানি করে আসছে। এবং নানা সময় সুযোগ খুঁজতে থাকে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য। তিনি আরো বলেন, আমরা চাই এই জামিরুল ইসলাম জামু সহ তার সকল সহযোগীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক।

দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়ক মাসুম পারভেজ রতন বলেন, জামিরুল ইসলাম জামু দীর্ঘদিন ধরে দৌলতপুর তথা শীতলাইপাড়া গ্রামে নানা ধরনের অরাজগতা সৃষ্টি করে একাধিক হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে যার দায়ভার অন্যের উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখেছে। নিজের আপন চাচীকে হত্যা সহ এলাকায় বিভিন্ন সময় চুরি ডাকাতির সাথেও জড়িত ছিল এই জামিরুল ইসলাম জামু।

তিনি দাবি করে বলেন এই জামিরুল ইসলাম জামুর সাথে জড়িত সকল অন্যায় কারী কে আইনের আওতায় আনতে পারলেই দৌলতপুর থেকে সিংহভাগ অন্যায় অত্যাচার দূর হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আকরামুল হক বলেন, শীতলাইপাড়া গ্রামে গৃহবধূ রেখা, গৃহবধূ তহুরা ও কনা কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে জামিরুল ইসলাম জামু সহ তার দলের সদস্যরা। হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে তৎকালীন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ইয়াকুব, পিয়ার, তুহিন সহ বেশ কিছু লোকের সহায়তায় স্থানীয় কিছু নিরাপদ লোককে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়। এমন অবস্থায় তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্যের মধ্য দিয়ে জনজীবন বিষিয়ে তুলে।

সাবেক ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন, বলেন, জামিরুল ইসলাম জামু একজন সিরিয়াল কিলার অর্থের বিনিময়ে এই জামু এমন কোন খারাপ কাজ নেই যে সে করেনি। আমাদের এলাকায় একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তার দায়ভার নিরীহ লোকজনের উপর চাপিয়ে দিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে হামলা লুটপাট ও ডাকাতি করে সর্বস্বান্ত করেছে নিরীহ লোকজনকে।

এদিকে অভিযুক্ত দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লা বিন জোহানী তুহিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, জামুর সাথে আমার ও আমার পরিবারের কোনো সম্পর্ক কখনো ছিল না, সে শীতলাইপাড়া গ্রামে থাকেও না। তার সাথে আমার ৬-৭ বছরের মধ্যে দেখা ও কথাও হয়নি। আমি নিজেও দীর্ঘদিন দৌলতপুরে যায় না,পিতামাতা সহ ঢাকাতে বসবাস করি। এখানে সাংবাদিকতা নিয়ে ব্যস্ত থাকি।

এছাড়াও আমার মেজর একটা অপারেশন হয়েছে তাই জার্নি করা আমার জন্য অসম্ভব। যারা আমার ভাবি হত্যার সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারা আমার পরিবার নিয়ে নানারকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমার পরিবার শান্তিপ্রিয় তাই মিথ্যা কোনো ঘটনার সাথে আমাদের জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। থানা পুলিশের প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা আছে, তাই মিথ্যা ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, গতকাল রাতে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামুকে স্থানীয়দের সহায়তায় গ্রেফতার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ, বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জামিরুল ইসলাম জামুকে শুক্রবার বেলা দুই টার সময় জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category