• বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বর্ণাঢ্য আয়োজনে মেহেরপুরে পালিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ বর্ণিল আয়োজনে গাংনীতে বাংলা বর্ষবরণ মুজিবনগরে গৃহবধূকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড গাংনীতে উপজেলা শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে মেহেরপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ মেহেরপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই হুসাইনের মৃত্যু প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন গাংনীতে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধন মেহেরপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত এক, আহত তিন

মেহেরপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

বিবর্তন প্রতিবেদক:
Update : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
মেহেরপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ
মেহেরপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

মেহেরপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার রাবেয়া জামানের বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অভিযোগ। ঠিকমতো মাদ্রাসায় না আসা, অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা, বোর্ডের নির্দেশনা থাকলেও গত এক বছরে মাদ্রাসার কমিটি গঠন না করাসহ প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।

সকল অভিযোগ লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর দাখিল করা হলেও তিনি কোন সুরাহা হয়নি এমনই অভিযোগ তুলেছেন মাদ্রাসার ১৮ জন শিক্ষক। যে কারণে নানা ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট সকলে।

শিক্ষকদের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে সুপার মাদ্রাসায় নিয়মিত আসেন না। তিনি বেতন বইতে স্বাক্ষর না করার কারণে বেতন তুলতে শিক্ষদের অনেক বেগ পেতে হয়। অ্যাডহক কমিটির গঠনের নির্দেশনা থাকলেও গত এক বছর ধরে তিনি কমিটি গঠন করছেন না। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিলেও সুপার এ বিষয়ে চরম উদাসীনতা দেখিয়েছেন। কয়েক মাস আগে নতুন ভবন হস্তান্তর করা হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ভবনটি এখনো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কমিটি না থাকায় এমপিও সংশোধন প্রক্রিয়ায় পোস্ট অফিসের নাম ভুল সংশোধন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাসিক বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং ইএফটি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান শিক্ষকরা।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সুপার রাবেয়া জামান ১৯৭৯ সালের সরকারী চাকরি বিধি লঙ্ঘন করে ২০০৪ সাল থেকে মেহেরপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে সংশ্লিষ্টদের মামলা করার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বিষয়টি একাধিকবার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে সুপার রাবেয়া জামান বলেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং তারাই আমাকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে হেনস্থা ও লাঞ্ছিত করে। একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, তার সব নিয়োগই বৈধ।

এবিষয়ে মেহেরপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল লতিফ মিয়া জানান, একটি প্রকল্পের আওতায় তিনি সেখানে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নিতেন। বর্তমানে প্রকল্পটি বন্ধ রয়েছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রাহীম জানান, অভিযোগগুলোর কিছু অংশ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

এবিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পার্থ প্রতিম শীল বলেন, মেহেরপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে আমরা অবগত। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাদ্রাসাটি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরীক্ষার ফলাফল ধারাবাহিকভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে। শিক্ষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলাই এর অন্যতম কারণ। এখন শিক্ষা বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category