মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া গ্রামে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি নালিশি জমিতে জোরপূর্বক নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পুলিশ প্রশাসন ও আদালতের পক্ষ থেকে বারবার কাজ বন্ধের নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছেন না অভিযুক্ত জামাল।
স্থানীয় ও মামলার বিবরণী সূত্রে জানা গেছে, ১০ নং তেতুলবাড়িয়া মৌজার আরএস ৪৮ আরএস ৩৮২৫ দাগে ০.১৪ একর জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২৭ এপ্রিল জমির প্রকৃত মালিক আক্কাস আলী মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। নালিশি জমিতে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেজন্য তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনে ১৪৫ ধারায় উভয় পক্ষকে পরবর্তী আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত জমিতে প্রবেশ করে কোন রুপ পরিবর্তন করতে পারবে না এবং এবং সব ধরনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন।
আদালতের এই আদেশের পর গাংনী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিনকে কয়েক দফায় লিখিতভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের আদেশ এবং পুলিশের নোটিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জামাল উদ্দিন এখনো তার নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী আক্কাস আলীর অভিযোগ, “আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জামাল উদ্দিন কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ও ক্ষমতার দাপটে বেআইনিভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আদালতে গিয়েছি, কিন্তু ক্ষমতার জোরে এভাবে আদালত অবমাননা করা হলে আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় বিচার পাব?
এবিষয়ে জামাল উদ্দিন বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কিছু করার নেই। যদি আক্কাসের পক্ষে রায় হয় তখন আমরা জমি ছেড়ে দেবো অথবা জমির মূল্য দিয়ে জমি কিনে নেবো।
এ বিষয়ে স্থানীয়রামনে করছেন, আদালতের আদেশ অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়া সরাসরি আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি অবমাননা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।