• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার উদ্যোগে এনবিআরকে বিএনটিটিপির ধন্যবাদ জ্ঞাপন মেহেরপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘরে মাদকবাহী প্রাইভেটকার: গাঁজাসহ চালক আটক জনমত গঠনের জন্য কাজ করছে হেজবুত তাওহীদ-এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বৃষ্টিতে ডুবেছে চট্টগ্রাম, বুকসমান পানিতে মানুষের ভোগান্তি আর দুর্ভোগ ইরানে আশার আলো ছড়াচ্ছে এশীয় চিতা জাল নোটের প্রচলন রোধে নতুন আইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী  মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে জাতিকে বিভক্ত না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাংনীতে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে তিনজন আহত মেহেরপুরের উন্নয়ন ভাবনা- কবি রফিকুল ইসলাম

শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ

বিবর্তন বাংলা ডেস্ক:
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ
শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ

বায়ু দূষণের পর শব্দ দূষণেও রাজধানী ঢাকা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শহরের তালিকায় এক নম্বরে উঠে এসেছে। শুধুমাত্র রাজধানীতে নয়, সারা দেশেই শব্দ দূষণ ক্রমে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় নতুন শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫ প্রকাশ করেছে। শুধু আইন প্রণয়ন নয়, কার্যকর বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে জরুরি। একটি বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ।

বৃহষ্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট কর্তৃক আয়োজিত “শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে করণীয়: বর্তমান সরকারের কাছে নাগরিক প্রত্যাশা” শীর্ষক লাইভ টকশো-তে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপতিত্বে এবং সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা মিঠুনের সঞ্চালনায় আয়োজনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর ল এন্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স ট্রাস্টের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন, চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহ ইসরাত আজমেরী, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টের স্বাস্থ্য বিভাগের হেড অফ প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান, এবং ডকুমেন্টেশন অফিসার বাবুল মিয়া।

বক্তারা বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশ শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ সংশোধন করে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশকে জরিমানা করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। শুধু আইন-বিধিমালা থাকলেই হবে না, এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিধিমালায় যে জরিমানার নির্দেশ দেওয়া আছে সেটি ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে বিধিমালার বিষয়ে সকলকে অবগত করার উদ্যোগ নিতে হবে। জনপরিসরে লাউডস্পিকার, মাইক, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে বনভোজন, নীরব এলাকায় আতশবাজি, পটকা, হর্নসহ সব ধরনের উচ্চশব্দসৃষ্টিকারী পণ্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে|

এছাড়াও সামাজিক অনুষ্ঠানে শব্দসীমা সর্বোচ্চ ৯০ ডেসিবল রাখা এবং অনুষ্ঠান রাত ৯টার মধ্যে শেষ করা, রাত্রিকালে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে| গাড়িচালকদের মধ্যে অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানোর প্রবণতা রয়েছে| এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য তাদের প্রশিক্ষণে এ বিষয়টি যুক্ত করা প্রয়োজন। শব্দ দূষণ একটি নীরব ঘাতক। এটি যেমন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য ক্ষতিকর তেমনি শিশুদের মধ্যেও মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করে। অতিমাত্রায় শব্দ শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে।

শব্দদূষণের ফলে শিশুদের মধ্যে অমনযোগিতা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, নেতিবাচক মনোভাব দেখা দেয়, যা তার পড়াশোনা ও সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করে| শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার-নাগরিক- বেসরকারি সংগঠন-সুশীল সমাজ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাবে। সকল স্কুলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে শব্দদূষণের ক্ষতিকারক দিক এবং শব্দ সচেতনতা সম্পর্কে দক্ষতা বৃদ্ধি, হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ, শব্দদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category