মেহেরপুরের মুজিবনগরে উর্মি খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রবিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত উর্মি খাতুন বিশ্বনাথপুর গ্রামের সোহেল বিশ্বাসের স্ত্রী এবং সোনাপুর মাঝপাড়া গ্রামের ভাসান আলীর মেয়ে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন উর্মি। পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের শাশুড়ি জানান “সকালে আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়ির সবাই আমাকে নিয়ে ব্যস্ত ছিল। উর্মিও তখন আমাদের সাথেই ছিল। হঠাৎ সে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা আটকে দেয়। অনেক ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় পেছনের দরজা ভেঙে তাকে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতলে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উর্মির মৃত্যু নিয়ে তার বাবার ভাসান আলী অভিযোগ করে বলেন, এটি আত্মহত্যা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তার ভাষ্যমতে গত শুক্রবার ছাগলকে ভুট্টা খাওয়ানো নিয়ে স্বামী সোহেল বিশ্বাসের সাথে উর্মির প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। খবর পেয়ে ভাসান আলী মেয়ের বাড়ি গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে চাইলে সোহেল বাধা দেন এবং একপর্যায়ে উর্মির গলা টিপে ধরে মারধর করেন। নিহতের এক চাচাতো ভাই জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে উর্মি ফোন করে কান্নাকাটি করেছিলেন।
ঘটনার পর থেকেই উর্মির স্বামী সোহেল বিশ্বাসকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মুজিবনগর থানার ওসি (তদন্ত) গৌতম কুমার জানান,খবর পেয়ে মুজিবনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।