ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে হুট করেই শোয়ার ঘরে ঢুকে পড়ল একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার! মেহেরপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী তেরঘরিয়া গ্রামে বুধবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন ঘরে ঘুমিয়ে থাকা আরশাদ আলী । আরশাদ আলী তেরঘরিয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ার নিফাজ আলীর ছেলে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেড় কেজি গাঁজাসহ প্রাইভেট কার চালক অনিক হোসেন বিপ্লবকে আটক করেছে। আটক অনিক হোসেন বিপ্লব মেহেরপুর শহরের হালদার পাড়ার নাজিমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেরঘরিয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আরশাদ আলী প্রতিদিনের মতোই নিজ ঘরে ঘুমানো ছিলেন। ভোর পৌনে ৫টার দিকে একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি তাঁর শোয়ার ঘরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। ইটের দেয়াল ধসে আরশাদ আলী সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি রাস্তার ওপর উল্টে যায়।
খবর পেয়ে রামদাসপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালক বিপ্লবকে উদ্ধার করেন। এ সময় গাড়ির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো তিনটি পোঁটলায় মোট দেড় কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপ্লব দীর্ঘদিন ধরেই ভোরে বা গভীর রাতে এই সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পাচার করে আসছিলেন।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রাইভেট কারের মালিক শহরের ফুলবাগান পাড়ার মহাসিন আলীর ছেলে নাজমুল শাহাদাত শুভ নামের এক ব্যক্তির। এই শুভর নামে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে। শুভকে ২০২৩ সালের ২৯ এপ্রিল ৯৭ বোতল ফেন্সিডিল ও ১ কেজি গাঁজাসহ আটক করে মেহেরপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল।
এছাড়াও গত ৫ এপ্রিল মেহেরপুর ডিবি পুলিশের একটি দল শুভর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র ৩টি কুড়াল, ৩৫ পিস ইয়াবা, ১৪০ গ্রাম গাঁজা ও একটি বিদেশী মদের বোতল উদ্ধারসহ সাব্বির ও সৈকত নামের দুই যুবককে আটক করে। এ ঘটনায় পলাতক আসামি হিসেবে শুভর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, শুভ একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। উঠতি বয়সী যুবকদের টাকা ও মাদকের প্রলোভনে ফেলে সে এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘরের মালিক আরশাদ আলী জানান, ফজরের আজানের সময় তিনি খাটে রাখা মোবাইলটি নেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়েছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বিকট শব্দে গাড়িটি দেয়াল ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়ে। মোবাইলটি নেওয়ার জন্য সরে না গেলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারতো বলে তিনি জানান।
রামদাসপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই অনুপ কুমার দাস জানান, ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। চালকের পায়ের কাছ থেকেই গাঁজাগুলো উদ্ধার করা হয়। আটককৃতের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।