‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের মধ্যে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস ও তাৎপর্য ছড়িয়ে দিতে মেহেরপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড। আজ মঙ্গলবার সকালে মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের হলরুমে প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার উল হক বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি সশস্ত্র সংগ্রাম ছিল না; এটি ছিল একটি জাতির আত্মপরিচয় ও শোষণ থেকে মুক্তির লড়াই। ২৫শে মার্চ কালরাত্রিতে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ আমাদের প্রেরণা জুগিয়েছিল। পরবর্তীতে ২৬ মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা আমাদের সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেয়। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা অর্জন করি লাল-সবুজের পতাকা।”
তিনি আরও বলেন, “একাত্তরের ১৭ এপ্রিল বৈদ্যনাথতলার (বর্তমান মুজিবনগর) আম্রকাননে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের স্মৃতি আজও আমাকে আপ্লুত করে। সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা মনে পড়লে এখনো শিউরে উঠি। তোমরা যারা আজকের শিক্ষার্থী, তোমাদের এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বুকে ধারণ করতে হবে।”
মেহেরপুর বন্ধুসভার সভাপতি আবদুল্লাহ আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক রূপালী বিশ্বাস, ইকরামুল হাসান, প্রভাষক খাইরুল ইসলাম, জহির আহমেদ, জান্নাতুল নাইম, হুমায়ুন আহমেদ, মেহেরপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক বশির আহমেদ এবং প্রথম আলোর মেহেরপুর প্রতিনিধি আবু সাঈদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজের প্রভাষক নাসির উদ্দিন।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত আর অগণিত মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীন ভূখণ্ড। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠর পাশাপাশি সেই নাম না জানা কৃষাণ-কৃষাণীদের অবদানও অনস্বীকার্য, যারা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার ও আশ্রয় দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তরুণ সমাজকে সঠিক ইতিহাস জানতে হবে, কারণ ইতিহাসবিমুখ জাতি কখনো উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা। এতে মেহেরপুরের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে বই ও বিশেষ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।