আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেহেরপুর জেলার সব ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার ২২৩টি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যেবক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, জেলার দুটি আসনের ২২৩টি ভোটকেন্দ্রের জন্য ২ হাজার ৭ শত ৬৯ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য এবং ৭০০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি মাঠে থাকবে ২৫টি মোবাইল টিম ও ৯টি স্ট্রাইকিং টিম। সহায়ক বাহিনী হিসেবে মোতায়েন থাকবে সেনাবাহিনী, ৮.৯ প্লাটুন বিজিবি এবং র্যাবের ৪টি টিম।
নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ২২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ২৭টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে কোনো ভোটকেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ১০৩টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। আর অধিক গুরুত্বপূর্ণ ২৭টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা লাইভ থাকবে, যাতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং নিশ্চিত করা যায়।
সভায় জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. সৈয়দ এনামুল কবির জানান, নির্বাচন পরিচালনায় ১৮ জন নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ৬ হাজার ৬ শত ৬২টি ভোট জমা পড়েছে। কিছু ভোট এখনও স্ক্যানিং প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ সময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মেহেরপুর সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৌরভ জানান, জেলার একাধিক ভোটকেন্দ্র সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে প্রাথমিকভাবে বিজিবি তা মোকাবিলা করবে। পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেনাবাহিনী সীমান্ত সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করবে।
সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং নির্বাচন পর্যেবক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।