জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গাংনীর বামন্দীতে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। বুধবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে উভয় পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ হয়। প্রাপ্য জমি না পেয়ে আজিরন নেছা দারে দারে ঘুরেও কোন সুরাহা করতে পারেনি। অন্যদিকে আব্দুস সাত্তার গং ওই জমি নিজের দাবী করে জোর পূর্বক দখল রেখেছেন। এতে আবারো রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গাংনীর বামন্দীতে বামন্দী মৌজার এসএ ৩৩৯,৩৪০,৩৪১,৩৪২,৩৪৩ ও ৩৪৪ খতিয়ানের ৫৩২ দাগের ৩৫ শতাংশ জমির ৩০ শতাংশ মক্কর আলীর স্ত্রী আজিরন নেছা ও আব্দুস সাত্তার গং ক্রয় সুত্রে মালিক হন। পরবর্তীতে আর এস ১৭৮ খতিয়ানে ৮৩৬ নং দাগে প্রবর্তিত হয়। বিধায় জমির প্রকৃত মালিক হন জলিমদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, আজিজুল, রমেছা খাতুন, আজিরন নেছা, বসিরন নেছা ও সালেহা খাতুন।
ওই জমি সকলেই ভোগদখল করলেও আজিরন নেছা তার প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হন। এ নিয়ে মেহেরপুর আদালতে একটি মামলা চলমান। অপর দিকে জলিমদ্দিন গং আজিরন নেছাকে বিবাদী করে আদালতে একটি মামলা করেন যা তদ›ত দেয়া হয় বামন্দী ইউএলএ ও বরাবর। গত বুধবার মামলাটি তদন্তের জন্য তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বাদী বিবাদীকে হাজির হতে বলা হয়। উভয় পক্ষ হাজির হলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
আজিরন নেছা গং জানান, ইতোপূর্বে জলিমদ্দিন গং সমস্ত সম্পত্তি নিজেদের বলে দাবী করে আদালতে একটি মামলা করেন। মামলাটি সম্পর্কে আজিরন নেছা কোন প্রকার অবগত না থাকায় সেটি একতরফা ডিগ্রী হয়। সেই ডিগ্রী বলে জলিমদ্দিন গং গাংনী ভূমি অফিসে বিবিধ মামলা দায়ের করেন যার নং- ৬৪/১৩/১৪৩/২০১৯। মামলাটির আদেশ হয় ৩/১০/২০১৯ ইং তারিখে।
বামন্দী ইউএলও কাগজপত্র যাচাই বাছাই না করে আজিরন নেছাকে তার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন ও আব্দুস সাত্তার, জলিমদ্দিন ও আজিজুল হককে ভূমিকর প্রদানের জন্য ক্ষমতা প্রদান করেন। সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হন আজিরন নেছা। অথচ আজিরন নেছার ছেলে আরজুল্লাহ গং ২০২৩ সাল অব্দি ওই সম্পত্তির ভুমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করেন।
স্থানীয় বামন্দীর তৎকালীন ইউএলওর কারণে এ সম্পত্তি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিরোধ। এমনকি রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে জলিমদ্দিন গংয়ের হাতে আহতদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গাংনী থানায় একটি মামলা করেছেন জলিমদ্দিনে গং। একদিকে সম্পদ বঞ্চিত অন্যদিকে গ্রেফতার আতংকে ঘর ছাড়া আজিরন নেছার পরিবারের লোকজন।বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আজিরন নেছা ও তার পরিবার।