বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতে যারা দেশ শাষণ করেছেন এর থেকে তারা দুঃশাষণ করেছেন লুটপাট ও দুর্নীতি করেছেন। আরেকদিকে তারা জাতিকে টুকরা টুকরা করেছেন।
ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে গোষ্ঠিতে গোষ্ঠিতে, পাহাড়ে-সমতলে বিভিন্ন জায়গায় তারা সংঘাত সৃষ্টি করে জাতিকে তারা মুখোমুখি করেছিলো। আমাদের বার্তা স্পষ্ট। আমাদের এই ১১ দলীয় ঐক্যের মানেই হচ্ছে আমার একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশকে আমরা আর কাউকে বিভক্ত করতে দেব না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের সম্পদের উপর আমরা হাত দেব না। আমরা সরকারি তহবিলের প্রত্যেকটি আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে দিতে বাধ্য থাকবো। সকল জনপ্রতিনিধিকে তাদের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে দিতে হবে। আমরা জনগণের চৌকিদার হয়ে আপনাদের আমানতের হেফাজত করবো।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি ।
আল্লাহর কসম করে তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতিতে জড়াবে না এবং কোনো ধরনের দুর্নীতিকেও প্রশ্রয়ও দেবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মেহেরপুর একটি ছোট জেলা হওয়া সত্ত্বেও এখানেও চাঁদাবাজির বিস্তার ঘটেছে। জনগণের রায়ে সরকার গঠন করতে পারলে এসব মানুষের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে এবং তাদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ভাতা দিয়ে বেকারত্ব কমে না; বরং কর্মসংস্থানই এর স্থায়ী সমাধান।
তাই জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ভাতার পরিবর্তে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তিনি ভোটারদের ভোটকেন্দ্র সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়ে ভোটাধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।
জনসভা শেষে কেন্দ্রীয় জামায়াত আমির মেহেরপুর জেলার দুটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমির ও মেহেরপুর-১ আসনের জামায়াত জোট প্রার্থী মাওলানা তাজউদ্দিন খান জনসভায় বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হুদা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা হুসাইন আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা।
জামায়াতের আমীরের জনসভা কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই জনসভাস্থলে অবস্থান করছিলেন। কানায় কানায় ভরে ওঠে মাঠ।
হেলিকপ্টারযোগে মেহেরপুর স্টেডিয়ামে নেমে দুপুর ১.২০ টার দিকে মঞ্চে আসেন জামায়াতের আমির। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে তিনি চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।