মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদীতে বিএডিসির সার গুদামের মেঝে ঢালাই কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
১৫ মে (শুক্রবার) বিকেল ৪টার সময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর অফিসের হল রুমে সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ জাব্বারুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৯ মে (শনিবার) সকালে বারাদী বিএডিসি সার গুদামের মেঝের সোলিং ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা তাজ উদ্দীন খানের দৃষ্টিগোচর হলে তার নির্দেশে সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে প্রতিনিধি দল তদারকির দায়িত্বে থাকা বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী একরামুল হকের সাথে যোগাযোগ করেন। প্রকৌশলী সিডিউল অনুযায়ী ১ নম্বর ইট ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও বাস্তবে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনগণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে ভালো মানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেয়।
জামায়াত নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে স্থানীয় কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যম তাদের ফেসবুক পেজে “জামায়াত নেতাদের ম্যানেজ করে নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার করেই চলছে বিএডিসি বারাদী সার গুদ্যমের মেঝে ঢালাই কাজ” শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে।
বক্তব্যে বলা হয়, যে রাজনৈতিক কর্মীরা নিজেদের সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে দুর্নীতি রুখে দিয়ে কাজ বন্ধ করলেন, তাদের বিরুদ্ধেই ‘ম্যানেজ হওয়ার’ অসত্য ও মানহানিকর অভিযোগ আনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ভিডিওটি প্রকাশের প্রায় ৩ ঘণ্টা পর (রাত ৯টা ৯ মিনিটে) সংশ্লিষ্ট অনলাইন পত্রিকাগুলো তাদের ভুলের বিষয়টি বুঝতে পেরে শিরোনাম পরিবর্তন করে লেখে-“জামায়াত নেতারা বন্ধ করার পরও নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়েই চলছে বারাদীর বিএডিসি সায় গুদামের মেঝে ঢালাইয়ের কাজ”।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা বলেন, শিরোনাম পরিবর্তন করার আগেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
“আমরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে জামায়াতকে জড়িয়ে এই ধরনের অপসাংবাদিকতা ও মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে ভবিষ্যতে তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানাচ্ছি, অন্যথায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।