মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে জাতিকে নতুন করে আর বিভক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার সময় তিনি সব রাজনৈতিক দলকে জাতীয় স্বার্থে একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিন মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সরকারিদলীয় সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বক্তব্যের পর বিরোধীদলের প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লোর নিয়ে জাতীয় স্বার্থে একযোগে কাজ করার এই আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্পিকারকে উদ্দেশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি বুঝতে পারছি আপনি কেন ভয় পাচ্ছেন, আপনাকে ধন্যবাদ যে, আমরা এখানে আলাপ-আলোচনা করি— মাঝেমধ্যে সেটা কিছু উত্তেজনা সৃষ্টি হবেই, সেটা স্বাভাবিক।
ফজরুল রহমানের বক্তব্যের জের ধরে স্পিকারকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংসদ সদস্য অত্যন্ত বয়স্ক এবং ইতিহাসে সমৃদ্ধ, কিন্তু আমরা এখন ভূগোলে আছি, আমরা বেশি ইতিহাস চর্চা করতে গেলে মাঝেমধ্যে কিছু ব্যত্যয় হবে মাননীয় স্পিকার। আপনি স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বটবৃক্ষ, তিনিও একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মাঝেমধ্যে শুনতে ভালো লাগে যখন বিরোধী নেতা বলেন যে, তিনি শহীদ পরিবারের সন্তান। আমরা এটাকে ধারণ করি। কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী দলে আছেন, আপনি নিজেই স্বীকৃতি দিয়েছেন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এখানে যখন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের বিলটা পাস করি, আপনার নিশ্চয়ই স্মরণে আছে— বিরোধী দল কিন্তু ওয়াকআউট করে নাই, এখানেই ছিল। না, ভোটও দেয় নাই, এখানেই ছিল সম্মতি। মৌনতার মৌনতা সম্মতির লক্ষণ হিসেবে আমরা ধরে নিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধ— এই দুই ডেফিনেশনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তারা তো সেটা স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমরা ওখানেই থাকি। সুতরাং, নতুন করে আমার মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ভিত্তিতে জাতিকে আর বিভক্ত না করি।
সংসদের মর্যাদা ও কার্যপদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সবাই আলোচনার মধ্য দিয়ে এই মহান জাতীয় সংসদে আমাদের সব কাজ এমনভাবে পরিচালনা করি, যেন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বর্তমান প্রজন্ম দেখে। যে যোদ্ধারা তাদের দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেস, তারাও যেন শুনে যে, আমরা জাতীয় প্রত্যাশা পূরণের জন্য এখানে আছি।