জনসেবায় মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্তে রূপ দিয়েছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সদ্য প্রসূতি মাকে হারানো ১৫ দিন বয়সী এক এতিম শিশুর পাশে দাঁড়িয়ে যেমন মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তেমনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন।
১৫ দিনের এতিম শিশুর পাশে ইউএনও সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশের আগে এক বৃদ্ধার কোলে নবজাতক নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখেন ইউএনও। কথা বলে জানতে পারেন, শিশুটির মা প্রসব-পরবর্তী জটিলতায় মারা গেছেন। মাত্র ১৫ দিন বয়সী শিশুটির বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলায়।
শিশুটির দাদী জানান, ইউএনওর মানবিকতার কথা শুনে অসহায় অবস্থায় তাঁর নিকট ছুটে এসেছেন। শিশুটির জন্য দুধসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চান তিনি। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির দাদীর হাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা তুলে দেন ইউএনও। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের অসহায় শিশুটির পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান তিনি।
গত ৩০ অক্টোবর রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর দাসপাড়া এলাকায় গোপনে বাল্যবিবাহের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন তিনি।
তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পরও মধ্যরাতে গোপনে বিয়েটি সম্পন্ন করা হয় বলে জানা যায়। পরদিন সকালে মেয়েটির পরিবার বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে এবং মেয়েটি মামার বাড়িতে বেড়াতে গেছে বলে দাবি করে।
পরবর্তীতে বিশ্বস্ত সূত্রে বিয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী মেয়েটির অভিভাবককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাল্যবিবাহ শিশুদের মৌলিক অধিকার, শিক্ষা ও সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ অপরাধ নির্মূলে পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে।