• সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:২৯ অপরাহ্ন

গাংনীতে প্রথাগত চাঁদা নিয়েছেন সমবায় অফিসার

বিবর্তন প্রতিবেদক / ১১৩ Time View
Update : রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২২
গাংনীতে প্রথাগত চাঁদা নিয়েছেন সমবায় অফিসার মাহাবুবুল হক
গাংনীতে প্রথাগত চাঁদা নিয়েছেন সমবায় অফিসার মাহাবুবুল হক

 

মেহেরপুরের গাংনীতে জাতীয় দিবস পালনে সমবায় সমিতি থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৫ নভেম্বর) ৫১ তম জাতীয় সমবায় দিবস পালনের সরকারীভাবে ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও ১২ জনের কাছে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ চাঁদা প্রথাগত ভাবেই নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমবায় অফিসার।

জানাগেছে, গাংনী উপজেলায় রেজিষ্ট্রেশনভুক্ত সমবায় সমিতি রয়েছে দুই শতাধিক। তবে এসব সমিতির সিংহভাগই প্রতিবছর অডিট হয় না। সমিতিগুলোর মধ্যে ২৫ টি নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসকল সমবায় সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের নিকট থেকে ১ হাজার টাকা ও তার চেয়েও বেশি টাকা নিয়েছেন। এ সকল সমবায়ীদের মধ্যে ১২ জন চাঁদা ও একজন গামছা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

“বঙ্গবন্ধুর দর্শণ, সমবায়ে উন্নয়ন” এ প্রতিপাদ্যে গাংনী উপজেলা প্রশাসন ও সমবায় অফিসের যৌথ আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়্। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ খালেক। তবে গাংনী উপজেলা সমবায় অফিসার মাহাবুবুল হক প্রতিটি সমবায় সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছেন।

বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাড়াডোব পুকুর পাড়া সমবায় সমিতির কাছ থেকে নেয়া হয় ১ হাজার, হবিবর রহমান এর কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ৫ শত, চাঁদপুরের ঠান্ডু ডাক্তারের কাছে ২ হাজার, কামালের ২ হাজার, মুক্তার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ৫ শত, ডিজিটাল বহুমুখি সমবায় সমিতির ১ হাজার, গাড়াডোব শ্রমিক কল্যাণ সমবায়ীদের ১ হাজার, বিআরডিবির ১ হাজার, তরুছায়া সমবায় সিমিতর ৫ শত, এফডিএ সমবায়ীদের কাছ থেকে নেয়া হয় ৩ শত ও মেহেদীর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার টাকা। সাহারবাটির সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ৮টি গামছা। আবার কারো কারো কাছে নেওয়া হয়েছে ৩০০০ হাজার টাকা।

ঠান্ডু ডাক্তার জানান, অনুষ্ঠান করতে প্রতিবছরই আমাদের সাথে টাকা নেয়া হয়। এবছরেও আমাকে টাকা দিতে হয়েছে। একজন সমবায়ী জানান আমার সমবায় সমিতি জেলার শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি হিসেবে পুরুস্কার পেয়েছি। কিন্তু গাংনীতে আমাদের কোন মুল্যায়ন করা হয়নি। আমাদের মতামতের কোন মুল্যায়ন নেই অফিসারের কাছে। নিজের খেয়াল খুশিমত কাজ করেন অফিসার। সাইফুল ইসলাম জানান, আমি টাকা দিইনি তবে ৮টি গামছা কিনে দিয়েছি। যার মুল্য ১ হাজার টাকা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সমবায়ী জানান, বর্তমান অফিসার আসার পর থেকে আমাদের টাকা দিয়ে অনুষ্ঠান করাতে হয়। আমাদের কাছে চাঁদা নেয়া হয় এটি অন্যায় ও অনিয়ম বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সমবায়ী সংগঠনের নেতারা।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা সমবায় অফিসার মাহাবুবুল হক জানান, আমি অফিসিয়াল বরাদ্দ পেয়েছি ২০ হাজার টাকা তাই দিবস পালনের আগেই প্রথা অনুযায়ী প্রস্তুতি সভা করেছি সমবায়ীদের নিয়ে। চাঁদা নেওয়াটা প্রথা, তাই আমিও প্রথা অনুযায়ী চাঁদা নিয়েছি। সব জায়গাতেই এরকম চাঁদা নেওয়া হয়। তাদের চাঁদার রশিদ দিয়েছি। কেমন রশিদ জানতে চাইলে তিনি বলেন সাদা চিরকুটে টাকার পরিমান লিখে স্বাক্ষর করে দিয়েছি যেনো হিসেব রাখতে তাদের সুবিধা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম জানান, আমার জানামতে উনি একজন ভালো লোক। উনি এটা করতে পারেন না। কয়েকটি সমবায় সমিতির লোকজনের সাথে কথা বলেছি তারা কেউ কোন অভিযোগ করেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category