• রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
গাংনীতে বিজয় দিবসের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়ার গ্রামে গ্রামে কুমড়ো বড়ি তৈরীর ধুম গাংনীতে জোরপূর্বক জ‌মি দখ‌লের অপ‌চেষ্টার বিরু‌দ্ধে সংবাদ সম্মেলন গাংনীতে নাশকতা মামলায় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর গ্রেফতার মেহেরপুর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়ায় বাড়ছে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা একই পরিবারে ১৭ জন প্রতিবন্ধী মেহেরপুর জেলা পরিষদের রেস্ট হাউজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন গাংনীর সাহারবাটি গ্রামের সাবেক মেম্বার রুহুল কুদ্দুসের দাফন সম্পন্ন কুষ্টিয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় ঝরলো দুটি প্রাণ প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন

মেহেরপুরের অধিকাংশ গ্রামের ডাকঘর শুধুই ইতিহাস

তৌহিদ উদ দৌলা রেজা, মেহেরপুর / ৬০ Time View
Update : রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২২
মেহেরপুরের অধিকাংশ গ্রামের ডাকঘর শুধুই ইতিহাস
মেহেরপুরের অধিকাংশ গ্রামের ডাকঘর শুধুই ইতিহাস

কাজীর গরু কিতাবে আছে গোয়ালে নেই, কার্যক্রম চলে পোস্ট মাস্টারের বাড়িতেই। আর্ন্তজাতিক ডাক দিবসেও নেই কোন কর্মসূচি। গ্রামের ডাকঘরগুলো এখন শুধুই ইতিহাস। প্রতিটি মানুষের জন্ম নিবন্ধন থেকে শুরু করে সবখানেই ঠিকানা লিখতে নাম গ্রামসহ ডাকঘরের নাম লিখতে হয়। কিন্তু মেহেরপুর জেলার প্রধান ডাকঘর ও উপজেলা সদরের অফিস ছাড়া আর কোন ডাকঘর চোখে পড়েনা। খুঁজতে গিয়েও দেখা মিলেছে কয়েকটির। বাকিগুলো শুধু প্রধান ডাকঘরের তালিকায় আছে। কার্যক্রম চলে এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল এজেন্ট (পোস্ট মাস্টার) এর বাড়িতেই। সরকারী অফিসের চিঠি পত্রও আসে ইমেইল ও বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে। ডাকঘরে বিলিকারী সংকট আছে। করোনা পরিস্থিতির কারনেই নিয়োগ হচ্ছে না, তবে জমি পেলেই ডাকঘর স্থাপনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে বলে জানালেন প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার।

এক সময় সকল ডাকঘরেই চিঠি ফেলার জন্য নির্দিষ্ট বক্স থাকতো এখন আর সেগুলো নেই। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে গাছের সাথেও লাগানো থাকতো ডাক বক্সগুলো। যে দুএকটা বক্স চোখে পড়ে তাও পরিত্যক্ত। বক্সগুলো খোলা হয়না কয়েক মাস বা বছর। জেলা, উপজেলা বা গুরুত্বপূর্ণ বাজারের ডাকঘর গুলো চলে শুধুই ১০ টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্প বিক্রয়ের জন্য। তবে ইউনিয়ন পর্যায়ের ডাকঘরগুলো এখন শুধুই সরকারী হিসেবের খাতায় রয়েছে। যেগুলোর অস্তিত্ব আছে সেই ডাকঘর শুধুই চিঠি বিতরণ করার জন্য। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রেরণ ও রেজিস্ট্রি চিঠি গুলো পাঠানোর কাজ করেন। ইতোপূর্বে মানি অর্ডার করার প্রচলন থাকলেও ব্যাংকগুলোর মোবাইল ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার জন্য এখন মানি অর্ডারও কমেগেছে। প্রতিটি জেলাতেই সঞ্চয়পত্র ব্যুরো অফিস আলাদা হয়ে যাওয়ার ফলে সঞ্চয় পত্রের কাজও কম হচ্ছে।

মেহেরপুর প্রধান ডাক ঘর সূত্রে জানাগেছে, তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত জেলায় প্রধান ডাকঘর একটি, উপজেলা ডাকঘর একটি ও উপ-ডাকঘর চারটি এবং ৩০ টি শাখা ডাকঘর রয়েছে। বর্তমানে চিঠি লেনদেন তেমন নেই। শুধুই জেলার প্রধান ডাকঘর হিসেবে যে কাজগুলো হয় সেগুলোই করা হয়। এখন যেকোন চিঠিই কম খরচে সারাদেশে কুরিয়ারের মতোই ২-৩ দিনে ডেলিভারী হয়ে যায়। মানুষ যদি এখনো ডাকঘর ব্যবহার করে তাহলে আবারও সকলের সহযোগীতায় সরকারী এ প্রতিষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের প্রভাষক এসএম রফিকুল আলম বকুল বির্বতন বাংলা’কে বলেন, কলেজ জীবনে বাবা মায়ের সাথে বা বন্ধুদের সাথে যোগাযোগের জন্য চিঠির আদান প্রদান করা হতো। এই চিঠি ডাকঘরে বিলিকারী বাড়ি বাড়ি পৌছে দিতেন। টাকা পাঠানোর মাধ্যমও ছিলো ডাকঘর। এখন সব কিছুই দ্রুত প্রেরণের জন্য আমাদের সকল ডকুমেন্ট আসে কুরিয়ারের মাধ্যমে। এখনো যদি সরকারী বা বেসরকারী অফিসের চিঠি আদান প্রদান ডাকঘরের মাধ্যমে বাধ্যতামুলক করা যেতো তাহলে ডাক বিভাগের প্রাণ ফিরে আসতো।

সচেতন মহলের অনেকেই মন্তব্য করে বলেন, সরকারী প্রধান এ যোগাযোগ মাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত না করতে পারলে এই বিভাগটি এক সময় রুপকথার গল্পের মতো হয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠান না থাকলে সরকারী টাকা নষ্ট করে শাখা অফিসগুলো পরিচালনা করা হবে বলে মনে করি।

মটমুড়া পোস্ট অফিসের এক্সট্রা ডিপাটিমেন্টাল এজেন্ট (পোস্ট মাস্টার) সাইদুর রহমান বলেন, উপজেলা ডাকঘর থেকে চিঠি আনা-নেওয়ার লোক নেই, বিলিকারী না থাকলেও চিঠি বিলি করা হয় তবে খুবই কষ্টসাধ্য। তবে প্রতি মাসেই বেতন পাচ্ছি কিন্তু অফিস না থাকায় ডাকঘরের কাজ বাড়িতেই পরিচালনা করা হচ্ছে।

গাংনী উপজেলা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার নজরুল ইসলাম জানান, ডাকঘরের জন্য সরকারী কোন জায়গা নেই। যদি জমি থাকতো তাহলে ডাকঘর নির্মান করার জন্য আবেদন করতে পারতাম। আগে আমরা উপজেলা ডাকঘর থেকেই চিঠিগুলো শাখা অফিসে প্রেরণ করতাম। সেখান থেকেই গ্রামে বিলি করা হতো। এখন শুধুই রেজিস্ট্রি ও সচিবালয়ের কিছু চিঠি আদান প্রদান হচ্ছে ও স্ট্যাম্প বিক্রয় করা হয়।

জেলার প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আবু সাঈদ মো: জহুরুল হক বির্বতন বাংলা’কে জোনান, শাখা ডাকঘরে রাজস্ব খাতের কোন পোস্ট মাস্টার নেই। সকলেরই নিয়োগ এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল এজেন্ট(পোস্ট মাস্টার) হিসেবে। ডাকঘরের জন্য সরকারী ভাবে কোন জায়গা নেই তাই ডাকঘরের কাজ চলে শাখা পোস্ট মাস্টারের বাড়িতে বা দোকানে। তবে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্প আসলে গ্রামের ডাকঘরের ভবনের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়। ইতোমধ্যে দুটি ঘর নির্মানের কাজ হয়েছে। জেলার প্রধান ডাকঘরের নতুন ভবন হচ্ছে তাই আমরাই এখন ভাড়ায় অফিস চালাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category