আবুল কাশেম একাধারে তিনি একজন কবি, সাহিত্যিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক এবং সমাজকর্মী ছিলেন। শিক্ষার আলো জ্বেলেছেন সমাজের অনেক গভীরে। পুরো জীবনটাই ব্যয় করেছেন সমাজকে আলোকিত করার কাজে। আজ মিলে গেলেন গহীন অন্ধকারে। যেখান থেকে আর কখনও ফিরবেন না; ফিরে আসাও সম্ভব না।
তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম মাস্টারের কথা। ব্রেন স্ট্রোক হয়ে আজ সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে আলমাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হারদি) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।
জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম (৭১) স্বনামধন্য হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন পুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আবুল কাশেম মাস্টার হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। একই সাথে তিনি একজন গুণী কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার লেখা অসংখ্য কবিতা ও সাহিত্যকর্ম স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সমাদৃত হয়েছে।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসী ভূমিকা আজও মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আলমডাঙ্গা কমান্ড ইউনিটের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়াও প্রতিবেশী উপজেলা গাংনী উপজেলায় সর্বদা তার বিচরণ ছিল উল্লেখযোগ্য। গাংনীতে বিভিন্ন সামাজিক কাজে সম্পৃক্ততা ছিল আবুল কাশেম স্যারের।
আবুল কাশেম মাস্টারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
আবুল কাশেম মাস্টারকে হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্ত্বরে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। জানাযা শেষে নগর বোয়ালিয়া-হাটবোয়ালিয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।