সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে দেশে উৎপাদিত সব ধরনের সিগারেটের প্যাকেটে ‘কিউআর বা এয়ার কোড’সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে বিএনটিটিপির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে. গত সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে তামাক খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআরের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন সরকার কর বা রাজস্ব পেয়েছে কিনা সেটা সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোডের মাধ্যমে ভোক্তারা নিজেই যাচাই করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কর ফাঁকির ঘটনা ধরিয়ে দিলে সরকারের তরফে পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখারও পরিকল্পনা করছে এনবিআর। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে তামাক কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষও রাষ্ট্রীয় কাজে অবদান রাখতে পারবে বলে মনে করে বিএনটিটিপি।
উল্লেখ্য, সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করাসহ সিগারেটের কর আদায়, ট্রাকিং ও ট্রেসিং এর জন্য ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার শুরু করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাবে দাবী জানিয়ে আসছিলো বিএনটিটিপি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সিগারেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার যে সুস্পষ্ট নীতি এনবিআর নিয়েছে সেটার মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিকভাবে কর আদায়ে ডিজিটালাইজেশনের যুগে প্রবেশ করলো। এতে সরকারের জনশক্তির অপচয় কমে আসবে এবং রাজস্ব আদায় আরও সহজ হবে। এই উদ্যোগ নেওয়ায় এনবিআর এর প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে কর আদায়, ট্রাকিং ও ট্রেসিং এ ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহারকে আরো বিস্তৃত করা হবে বলেও বিএনটিটিপি আশা করছে।
সিগারেটের প্যাকেটে যে কিউআর কোড থাকবে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য যুক্ত করার অনুরোধ করেছে বিএনটিটিপি। এসব তথ্যগুলো হলো, সিগারেটের উৎপাদনের তারিখ, শলাকার পরিমান, প্যাকেটের মূল্য, কোম্পানির নাম ও ঠিকানা, ব্যান্ডরোল/স্ট্যাম্পের সিরিয়াল নম্বর, পরিশোধিত ট্যাক্সের পরিমান এবং ট্যাক্স পরিশোধ হয়েছে কিনা সেটা যাচাইয়ের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা।