কামাল ইসলাম। বয়স ৬০ বছর। পিতা মৃত আজিজুল হক। বসবাস করেন মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামে। তিনি পেশায় একজন দরিদ্র রিকশা চালক। কুলবাড়িয়া মাঠ পাড়ায় একটি বাগানের মধ্যে তার দখলীয় ছোট্ট একটি বাড়িতে বসবাস করেন। বাড়িটির চারিদিকে টিন দিয়ে ঘেরা। গত সোমবার এলাকাবাসীর সামনেই তার বসত বাড়িটি ভেঙ্গে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তছনছ করেছে। বাড়িতে থাকা খাদ্যদ্রব্য কুকুর দিয়ে খাইয়ে দেওয়া হয়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একই গ্রামের মৃত আইনদ্দীন মন্ডলের ছেলে ফানু, পচাঁ, ফিরোজ ওরফে ফিরা, সেন্টু, মৃত ঘেন্টুর ছেলে সরন, মৃত মন্টুর ছেলে সেতু, ফানুর ছেলে রিপন ও সুমন, পচাঁর ছেলে কাঞ্চন ও সেন্টুর ছেলে অনিকসহ আরও অনেকে এই হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লটপাট করেছেন বলে অভিযোগ কামাল ইসলামের।
কামাল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তার দাদার সম্পত্তি নিয়ে অভিযুক্তদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে মেহেরপুর আদালতে দেওয়ানী মামলা চলমান রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হতেই অভিযুক্তরা বারবার জমি দখলের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ শুরু করে। একাধিকবার তারা প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করে। গত দেড় মাস আগে তার দখলীয় জমিতে টিন দিয়ে ঘর বানিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
আমার অবর্তমানে গত সোমবার অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িটি মাটির সাথে মিশিয়ে দেয় এবং বাড়িতে থাকা আসবাবপত্র দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তছনছ ও ঘওে যে খাবার ছিলো তা গরু-ছাগল ও কুকুর দিয়ে খাইয়ে দেয়।
এসময় কামাল ইসলামের ভাই হাবেল উদ্দিনের স্ত্রী জেসমিনের উপর হামলা করে গুরুত্বও আহত করে। জেসমিনকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার শারীরিক অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেলে রেফার্ড করে। এছাড়াও বাড়ির বাক্সে থাকা জমির দলিল, টাকা ও স্বর্ণ তারা লুট করে নিয়ে যায়। এঘটনায় সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পচাঁ প্রথমে ভ্যানে করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে পরে বাকীরা এসে ঘর-বাড়ি কোপাতে শুরু করে। আমরা ভয়ে তাদের বাঁধা দিতে পারিনি। আমরা অসহায়ের মত দাঁড়িয়ে দেখেছি। বাড়িতে কোন পুরুষ ছিলো না। শুধুমাত্র কালামের ভাইয়ের বৌ ছিলো। তাকেও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে। এই রমজান মাসে তাদের বাড়ি ছাড়া করা হলো তাদের খাবারগুলোও নষ্ট করে দিয়েছে। এগুলো কোন মানুষের কাজ হতে পারে না। এমন ঘৃণিত কাজের উপযুক্ত বিচার হওয়া দরকার।