মেহেরপুর সদর উপজেলার রাধাকান্তপুর গ্রামে ক্রয়কৃত জমির ফসল কর্তন, জমি দখলে বাঁধা প্রদান এবং হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার কদর ও তার সহযোগী জাইদুল ও ছাকাতের বিরুদ্ধে। যার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভূগী ইস্তাদুল হক। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারী) বেলা ১১টার দিকে মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইস্তাদুল হক তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, মেহেরপুর কালেক্টরীর অধীন ১৯ নং দক্ষিণ শালিকা মৌজার অন্তর্গত আরএস ২৫৯৯ দাগের ৪২ শতক ও আরএস-৩১০৬ দাগের ৩২ শতক জমি আরএস- ৬৬০ খতিয়ানে এবং আরএস-৩০৭২ দাগে ২০ শতক আরএস- ৪৬০ নং খতিয়ানে জমির মালিক তাহাজ উদ্দিন সেখ। তাহাজ উদ্দিন সেখ মারা গেলে তার মেয়ে ছায়রা খাতুন, আমিরন নেছা ও ছেলে আক্তারুল ওয়ারিশ সূত্রে ওই জমির মালিক এবং দখলদার ছিলেন। অর্থের বিশেষ প্রয়োজন হলে তাদের অংশের জমি বিক্রয় করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ শুরু করেন। ওই জমি ক্রয় করতে ইস্তাদুল হক আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে
২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর ৫৯৫৬/১৪ নং রেজিষ্টি কবলা দলিল মূলে আরএস ২৫৯৯ দাগের ৪২ শতক জমির মধ্যে ১৬.৫০ শতক এবং আরএস ৩১০৬ দাগের ৩২ শতক জমির মধ্যে ১৩.৫০ শতক এবং আরএস ৩০৭২ দাগের ২০ শতক জমির মধ্যে ১০ শতক মোট- ৪০ শতক জমি ইস্তাদুল হক ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর থেকে দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইস্তাদুল হক ওই জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষ-আবাদ করে আসছেন। বর্তমানে ওই জমিতে গম ও কলার আবাদও করেছেন ইস্তাদুল হক।
তবে দীর্ঘ বছর পর ক্রয়কৃত ওই জমি নিজেদের শরীক দাবি করে কদর আলী ও তার ভাড়াটিয়া জাইদুল এবং ছাকাত ওই জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জমি নিয়ে ইতিপূর্বে কদর আলী মেহেরপুর যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে ২০১৩ সালে একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং মেহেরপুর দেং- ৮৩/২০১৩। ২০১৭ সালের ২২ আগষ্ট চূড়ান্ত শুনানীতে মামলাটি খারিজ করে দেয় আদালত।
মামলাটি খারিজের পর ২0২৫ সালের ৭ নভেম্বর কিটনাশক স্প্রে করে গম এবং গত ৬ জানুয়ারি জমির সমস্ত কলা গাছ কেটে তছরুপও করে। এছাড়াও বর্তমানে প্রকাশ্যে ইস্তাদুল হককে হত্যা এবং জমি দখল করার হুমকি দিচ্ছে তারা। বর্তমানে ইস্তাদুল হকের দায়ের করা একটি মামলা সহকারী জজ আদালতে চলমান রয়েছে। যার মামলা নং মেহেরপুর দেং- ৩৩/২৬।
ইস্তাদুল হক বর্তমানে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন এবং তিনি প্রশাসনের নিকট সু-বিচার দাবি করেছেন।