প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২১, ২০২৬, ১২:১৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ৫, ২০২৫, ৫:৩০ এ.এম
ফুলকপি চাষে মূলধন হারাতে বসেছে মেহেরপুরের চাষিরা

দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদনকারী জেলা মেহেরপুরে বছরের বেশির ভাগ সময় বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করা হয়। এখানে উৎপাদিত সবজি মেহেরপুর জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, বরিশাল, ফরিদপুর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করা হয়। ফুলকপি, বাঁধাকপি, সিম, টমেটো, বেগুন, মরিচসহ নানা জাতের শীতকালীন সবজি এখন মাঠ জুড়ে। তবে এবার ফুলকপি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। চাহিদা তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় খরচ তো দূরের কথা মূলধন হারাতে বসেছে চাষিরা। আগামীতে নতুন ফসল আবাদ নিয়েও পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।
অনেকটা ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে জেলার পাইকারি বাজারগুলো। ফলে সবজি খেতেই নষ্ট হচ্ছে। বেশির ভাগ কপি চাষি খেত ছেড়ে দিয়েছেন। কপি এখন গো-খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে না বলে জানালেন চাষিরা।
জেলার সবজির প্রধান গ্রাম সাহারবাটির চাষি আলামিন এবার বিশ বিঘা জমিতে ফুলকপির আবাদ করেছেন। বিঘাপ্রতি তার ৪০ হাজার টাকা করে প্রায় আট লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। এত টাকা খরচ করেও তিনি লাভের মুখ দেখেননি।
বতর্মানে জমিতে যে পরিমাণ কপি আছে তা তুলতে ঘর থেকে বিঘাপ্রতি ছয় হাজার টাকা লোকসান দিতে হবে। সারের দোকানের বাকী টাকা পরিষোধ করা নিয়েও বিপাকে পড়েছেন তিনি। একদিকে কপি বিক্রি করতে না পারা অপরদিকে সার সিন্ডিকেটে পড়ে মূলধন হারাতে বসেছেন তারা। তিনি সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন।
একই এলাকার আমানুর ১৪ বিঘা জমিতে ফুলকপি আবাদ করেছেন। তিনি বলেন ফুলকপি চাষে এবার আমাদের মাথায় হাত। চাহিদা তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় ফুলকপি কিনতে আগ্রহী নন আড়ত মালিকরা। তাই বাধ্য হয়ে ফুলকপির জমি পরিষ্কার করার জন্য এক ট্রাক ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫ হাজার টাকায়।
খলিলুর রহমান বলেন, এবার ৭ বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছি। জমিতে যে চাষ দিয়েছিলাম সেই চাষের টাকায় উঠেনি। পরের ফসল কিভাবে করবো তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। সরকার কিছু অনুদান দিলে আমরা উপকৃত হতাম।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে জেলায় এ বছর ফুলকপির আবাদ হয়েছে ১ হাজার ১২০ হেক্টর, বাঁধাকপির আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৬০ হেক্টর। এর মধ্যে গাংনী উপজেলায় বিভিন্ন মাঠে ১৬০ হেক্টর ফুলকপি এবং ১৫৫ হেক্টর বাঁধাকপির আবাদ হয়েছে।
গত বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। এবছর প্রচন্ড শীত ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আশানুরূপ ফলন হলেও বাজার মূল্য না পাওয়ায় হতাশ চাষিরা। যেখানে গত কয়েক সপ্তাহ আগেও প্রতি পিস কপি বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে। সেখানে চলতি সপ্তাহে কৃষকের জমি থেকে প্রতি পিস কপি ১ টাকা দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন আড়ত মালিকেরা। ১ বিঘা জমিতে ফুলকপি আবাদ করতে ৩৫-৪০ হাজার টাকা এমনকি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয় কিন্তু খরচ উঠানো তো দূরের কথা জমি পরিষ্কার করতেই এখন গুনতে হবে বাড়তি টাকা।
Copyright © 2026 bibartanbangla.com. All rights reserved.