অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের আলোচিত ওয়াজ মাহফিল। অনলাইন জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত আনোয়ার হোসেন তার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করাতে এলাকায় চলছিলো সমালোচনা ঝড়।
অন্যদিকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠ দখল করে বড় ধরনের জমায়েত করায় নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন হয়। তাই সোমবার দিবাগত রাতে ওয়াজ মাহফিল চলা অবস্থায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত আনোয়ারের ভাই সানোয়ারের নামে কারন দর্শানো নোটিশ করে উপজেলা প্রশাসন।
গাংনী উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর জন্য ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দিয়ো নোটিশ দেওয়া হয়।
কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, এই ধরনের বড় জমায়েত করার বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের পূর্ব অনুমতি প্রয়োজন। অনুমতি পাওয়ার আগেই তোরণ ও প্যান্ডেল সজ্জিত করা হয়েছে যা নির্বাচনী আচরণবিধি মালার পরিপন্থী। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ২০২৫ লংঘন করায় আয়োজকদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানাতে ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। উক্ত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে ব্যর্থ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুশিয়ার করা হয়।
জানা গেছে, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পরেই মাহফিলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় আয়োজক। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী) প্রধান তোরণ ও প্যান্ডেল অপসারণ করতে দেখা গেছে। মাহফিল বন্ধ হওয়ার আগে গত সোমবার (১২ জানুয়ারী) রাতে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আখেরুজ্জামানের সভাপতিত্বে মাহফিল শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোচক ক্বারী মাওলানা জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ, এ সময় ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় শিল্পী আবু ওবাইদা।
অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন গাড়াডোব জোলিবিলপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মোঃ হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী। এছাড়াও অনুষ্ঠানটির আয়োজক মরহুম কিয়ামদ্দিন আলীর পরিবারবর্গের পক্ষে তার ছেলে ছানোয়ার হোসেন। পুর্ব অনুমতি ছাড়াই মাহফিল আয়োজন করায় নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
আরও জানা গেছে মেহেরপুর জেলার পুলিশ প্রশাসনের তালিকাভুক্ত অনলাইন জোয়ার শীর্ষ এজেন্ট গাড়াডোব গ্রামের মৃত কিয়াম উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন। একজন অনলাইন জুয়ার শীর্ষ এজেন্ট এবং পুলিশের তালিকায় পলাতক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি কিভাবে এ আয়োজন করে এমন প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এলাকায়। যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার তদন্ত চলছে সেই আবার জাঁকজমকপূর্ণভাবে প্রকাশ্য চিঠি করে নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচনী সকল আচরণ ভঙ্গ করে ধর্মীয় মাহফিল আয়োজন করছে বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী) রাতে তার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার কথা ছিল খ্যাতিমান দার্শনিক ও রাষ্ট্রচিন্তক, পন্ডিত্র কুরআনের কাব্যানুবাদক জাগ্রত কবি আল্লামা মুহিব খান। গতকালের ইসলামী বক্তাদের বক্তব্য ও আজকের অতিথি আসার কথা যাদের এসব বিষয় নিয়ে জেলা জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয় মাওলানারা এই ঘটনা তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা জানিয়েছেন মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামে দিবস পালনে নিষিদ্ধ। অন্যদিকে যার হাত ধরে হাজার হাজার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে সেই ব্যক্তিই কিনা এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন করছে। এটা আসলেই খুবই কষ্টদায়ক এবং যারা বক্তা এসেছেন তারাও সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা এলাকায় মাহফিল করতে হলেও জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। গাড়াডোবের মাহফিলের অনুমতির আগেই তা শুরু করেছিলো। অপরদিকে নির্বাচনকালীন সময়ে এই আয়োজন ছিলো নির্বচনী আচরণ বিধিমালার লঙ্ঘন তাই এটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লখ্য: সোমবার (১২ জানুয়ারী) রাতে বিবর্তন বাংলা নিউজ পোর্টালে একটি সংবাদ প্রচারিত হয়েছিলো "গাংনীতে অনলাইন জুয়ার অর্থে দুই দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, এলাকাজুড়ে বিতর্ক" শিরোনামে।