গণপরিবহনসহ পাবলিক প্লেসে ধূমপান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হলে জনসচেতনতার পাশাপাশি শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় এসব জায়গায় পাবলিক নির্দ্বিধায় ধুমপান করে যাচ্ছে। প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে যেহেতু আমাদের হাতে আইন আছে তাই আইনের যথাযথ প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী তামাকমুক্ত আইন।
আমরা মনে করি, শক্তিশালী তামাকমুক্ত আইন এর সঠিক বাস্তবায়ন-ই পারে বাস টার্মিনালকে সম্পূর্ণরূপে ধূমপানমুক্ত করতে। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত “পাবলিক প্লেস ও পরিবহন শতভাগ ধূমপানমুক্ত করতে আইন শক্তিশালী করা হোক”- শীর্ষক মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ডেভলপমেন্ট এ্যাকটিভিটিস অফ সোসাইটি (ডাস), বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) ও বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের সমন্বিত উদ্যোগে কর্মসূচি দুটি গাবতলী বাস টার্মিনালে অনুষ্ঠিত হয়।
ডেভলপমেন্ট এ্যাকটিভিটিস অফ সোসাইটি (ডাস) এর টীমলীড আমিনুল ইসলাম বকুল এর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হানিফ এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ বাস- ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের সাবেক জেনারেল সেক্রেটারী হাজী মো: হানিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের দুই ভাইস চেয়ারম্যান হাজী মো: সামিউল্লাহ ও বজলুর রহমান রতন। ডাস্ এর কর্মসুচি সমন্বয়কারী মোয়াজ্জেম হোসেন টিপু’র সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানববন্ধনে ডাস্ এর টীমলীড আমিনুল ইসলাম বকুল এবং আলোচনা সভায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা)’র দপ্তর সম্পাদক সৈয়দা অনন্যা রহমান। অন্যন্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন - বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী এবং প্রত্যাশা-মাদক বিরোধী সংস্থার সভাপতি হেলাল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, মো: কিসমত- পরিবহন মালিক সমিতির মো: আলমগীর কবির, শ্যামলী পরিবহনের ম্যানেজার মো: সুজন, ম্যানেজার-রাহবার পরিবহন, হানিফ পরিবহনের জিএম মো: মোশাররফ হোসেন, ম্যানেজার চুন্নু মিয়া টিসিআরসি’র বিভূতি ভূষণ, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের আজিম হোসেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে দু’টি বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন। প্রথমত: কোন গাড়ির স্টাফ যদি ধূমপান করে তবে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং দ্বিতীয়ত: টার্মিনালের অভ্যন্তরে কোন যাত্রি যত্রতত্র ধূমপান করতে না পারে সে দিকে দৃষ্টিপাত করা। পাশাপাশি টার্মিনালের ভেতরে বিড়ি সিগারেট বিক্রি বন্ধ করার জন্য সম্মিলিতভাবে সবাইকে কাজ করার আহবাণ জানান। তামাক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান যে আইন আছে সেটাকে আরো শক্তিশালী করে সেই আইনের সঠিক প্রয়োগ করার জন্যও সরকারসহ সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি অনুরোধ করেন।
সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পাবলিক পরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছাড়াও চালক ও হেল্পারগণ মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। এজন্য দরকার চালক ও হেল্পারদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিজেদের অধূমপায়ী হওয়া। তিনি পরিবহন মালিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আইনানুযায়ী প্রত্যেকটি পরিবহনে নিজ উদ্যোগে দৃশ্যমান জায়গায় “ধূমপান হইতে বিরত থাকুন, ইহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ” লেখা সম্বলিত সাইনেজ লাগানোর কথা থাকলেও সরেজমিনে তার বাস্তবায়ন তেমন একটা পরিলক্ষিত হয় না বললেই চলে। তাই এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি সকল মালিকদের পরামর্শ দেন।
বক্তারা মনে করেন, পরিবহন শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাস টার্মিনালগুলোতে অবাধে ধূমপান বন্ধের পাশাপাশি টার্মিনাল এলাকায় যত্রতত্র সিগারেটের দোকান বসতে না পারে এবং টার্মিনালের সার্বিক পরিবেশ যাতে সুষ্ঠুভাবে বজায় থাকে সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দিতে হবে। গণপরিবহনে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর ও বাস্তবায়নে বাস মালিক সমিতির উদ্যোগে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার ব্যবস্থা করতে হবে।
কর্মসূচিতে অন্যন্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন নাগরিক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, মালিক সমিতির সদস্যসহ, কাউন্টার ম্যানেজার ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।