পাট ধোঁয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঝিনাইদহের পাট চাষিরা। এ বছর জেলায় পাট চাষ হয়েছিলো ২০ হাজার ২২৬ হেক্টর জমিতে। অন্যদিকে ভরা মৌসুমে চাষীরা পাট বীজ উৎপাদনের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। কিন্তু বীজের অভাবে পাট বীজ উৎপাদন ব্যহত হওয়ার আশংকা।
জেলায় পাট অধিদপ্তরের অধীনে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নিঝুম টাওয়ারের দ্বিতীয় তালায় পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় এবং মুখ্য পরিদর্শকের কার্যালয় নামে দুইটি অফিস থাকলেও তা তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। পাট অধিদপ্তর ঝিনাইদহের ওয়েব পোর্টালে পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং মূর্খ পরিদর্শকের যে তথ্য আছে সেটিও সঠিক নয়। তবে অফিসের দরজায় লেখা আছে জরুরী প্রয়োজন ও লাইসেন্সের জন্য আলাদা দুটি মোবাইল ফোন নম্বর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় এবং মুখ্য পরিদর্শকের কার্যালয়টি তালাবদ্ধ। পাট বীজ উৎপাদনের লক্ষে চারজন কৃষক বীজ নিতে এসেছেন সেখানে। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা অফিসে এসে তালা বন্ধ দেখতে পেয়ে দরজায় প্রদর্শিত মোবাইল ফোন নম্বরে কল দিলেও তা রিসিভ করেননি কেউ। প্রায় তিন মাস যাবত উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান কোন কৃষকের সাথে যোগাযোগ করেননি এমন কি উক্ত কর্মকর্তার নম্বরে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকে। অফিস দুটিতে দুইজন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার কথা কিন্তু একজন ও অফিসে আসেন না। পাটের লাইসেন্সসহ নানা সমস্যা নিয়ে অফিসে আসেন ব্যবসায়ীরা কিন্তু তাদের পাওয়া যায় না। একজন পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা থাকলেও তিনি অফিসে আসছেন না। একজন মূখ্য পরিদর্শকের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে একদিন অফিস করার কথা থাকলেও তিনি একেবারেই আসেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক দোকানি জানান, পাট অফিস সবসময় বন্ধ থাকে। বিভিন্ন লোকজন এসে কাউকে না পেয়ে ফিরে যায়।
পাট অধিদপ্তর ঝিনাইদহের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মুখ্য পরিদর্শক মোঃ তারেক রহমান বাপ্পী বলেন, আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ঝিনাইদহের দ্বায়িত্বে আছি। যশোরে অফিস করি এবং মাঝে মাঝে ঝিনাইদহে যায়। তবে সপ্তাহে ঠিক কোন দিন ঝিনাইদহে অফিস করেন সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
পাট অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, পাট অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে মোঃ মেহেদী হাসান প্রকল্পের আওতায় কর্মরত ছিলেন। প্রকল্পটি শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে হয়তো মোঃ মেহেদী হাসান চাষীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং চাষীদের ফোন রিসিভ করেন না। আমাদের জনবলের সংকট রয়েছে। এবিষয়ে অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। পাট অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, আমার কার্যালয়ের একজন মুখ্য পরিদর্শক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলা দেখেন। সপ্তাহের ঠিক কোন দিনে তিনি সেখানে অফিস করেন তা আমার জানা নেই। তবে তিনি জেলা দুইটির সকল কাজ যশোরে থেকেই করেন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মোঃ নোমান হোসেন বলেন, পাট অধিদপ্তরের তালাবদ্ধ এবং অধিকাংশ সময় পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা অফিসে অনুপস্থিত থাকেন এমন কোন ঘটনা আমার জানা নাই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সৈয়দ মোঃ নূরুল বাসির বলেন, পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা একটি জেলার মূল দায়িত্বে থাকেন এবং পাশাপাশি ২-৩ টা জেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। পাট অধিদপ্তরে ৭৫ শতাংশ জনবল না থাকার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন একটি অফিস বন্ধ থাকতে পারে না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।